খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকা শহরের খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, সরকারি গুদামে বর্তমানে ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এই পরিমাণ দেশের নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবং ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
ব্রিফিংয়ে আলী ইমাম মজুমদার উল্লেখ করেন, নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্য ১৩.৫ লাখ টন নির্ধারিত থাকলেও, বর্তমান মজুদ ২২ লাখের বেশি, যা আল্লাহর রহমতে অর্জিত একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি এ কথা বলার সময় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
সেই সেশনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম. সালেহ আহমেদ এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকারও উপস্থিত ছিলেন। উভয় কর্মকর্তাই মজুদ সংক্রান্ত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার জন্য প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশ নেন।
আলী ইমাম মজুমদার লক্ষ্য ও বাস্তবতার পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, পূর্বে তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় মজুদ লক্ষ্য পূরণ করা অপরিহার্য, এবং এখন তা সম্পন্ন হয়েছে। ফলে, দুই দিন পর দায়িত্ব গ্রহণকারী নতুন কর্মকর্তা তৎকালীন কোনো জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন না; তিনি শিথিলভাবে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দিতে পারবেন।
ব্রিফিংয়ে ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ছয় বছরের মজুদ প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চালের মজুদ ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ টন, গমের মজুদ ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৪৩ টন এবং ধানের মজুদ ১ লাখ ৭ হাজার ৮১৫ টন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এই তিনটি শস্য মিলিয়ে মোট মজুদ ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ টন।
উল্লেখিত সংখ্যা ছয় বছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ এবং গত বছরের (২০২৫) একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ ৩৪ হাজার টন বেশি। এই বৃদ্ধির পেছনে সরকারী সংরক্ষণ নীতি ও উৎপাদন বৃদ্ধির সমন্বয় কাজকে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পূর্ববর্তী বছরের মজুদ পরিসংখ্যানও প্রকাশ করা হয়। ২০২১ সালে মোট মজুদ মাত্র ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬৮ টন ছিল। পরের বছর ২০২২-এ এটি বেড়ে ২০ লাখ ৯ হাজার ৯২৪ টনে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে মজুদ সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ২০ লাখ ২৬ হাজার ১৯৬ টন হয়। তবে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে মজুদ যথাক্রমে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ টন এবং ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫৫ টনে হ্রাস পায়।
এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মজুদের ওঠানামা ছিল, তবে ২০২৬ সালে পুনরায় সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানো দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, মজুদ অতিরিক্ত হওয়ায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সংকট মোকাবিলার চাপে না থেকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। এটি সরকারকে ভবিষ্যৎ মৌসুমে শস্য উৎপাদন ও রপ্তানি নীতি নির্ধারণে বেশি স্বচ্ছন্দে কাজ করার সুযোগ দেবে।
সারসংক্ষেপে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এই প্রকাশনা দেশের খাদ্যশস্য সংরক্ষণে অর্জিত অগ্রগতি তুলে ধরে এবং সরকারী নীতি বাস্তবায়নের ফলাফলকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে। ভবিষ্যতে মজুদ বজায় রাখা এবং বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করার দিকেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



