ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মঙ্গলবার সকাল ঢাকা‑এর ধানমন্ডি এলাকায় টিআইবির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিপিআই ২০২৫ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার দায়িত্ব পালন করতে যথেষ্ট ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, সংস্কার উদ্যোগের বাস্তবায়নে গতি ধীর হয়েছে এবং স্বচ্ছতার চর্চা যথাযথভাবে চালু করা যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির সূচকে (সিপিআই) তিন পয়েন্ট উন্নতি করেছে, যেখানে বাংলাদেশ মাত্র এক পয়েন্টই বাড়াতে পেরেছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান ব্যাখ্যা করেন, এই এক পয়েন্টের উন্নতি দুর্নীতির হ্রাসের ফলে নয়, বরং জুলাই মাসে গৃহীত আন্দোলনের ফল, যা চোরতন্ত্রের বিরোধিতা করেছিল। ফলে সিপিআই স্কোর এক পয়েন্ট বাড়ে এবং ২৪ এ পৌঁছায়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, চোরতন্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দেশের অভ্যন্তরে দলবাজি ও দখলদারির প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দুর্নীতির হাতবদল ঘটছে, দমন নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক বাধা সংস্কারকে ধীর করে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতার মানদণ্ডে অগ্রগতি করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক দুর্নীতি মোকাবেলায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তিনি টিআইবির গবেষণা ও বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে এই মতামত প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ড. সুমাইয়া খায়ের, যিনি বহির্বিভাগ ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক, মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, বহির্বিভাগের পরিচালক, এবং গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এই সভায় অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি টিআইবির নীতি ও গবেষণা কার্যক্রমের সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, সিপিআই ২০২৫ প্রতিবেদনটি দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে, যা নীতি নির্ধারক ও নাগরিক সমাজের জন্য দিকনির্দেশক হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন, যদি রাজনৈতিক স্বার্থ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সংস্কারকে বাধা দেয়, তবে দেশের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার উন্নয়ন কঠিন হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান অবস্থার ওপর এই বিশ্লেষণ দেশের রাজনৈতিক পরিসরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, টিআইবির এই প্রতিবেদন ও ড. ইফতেখারুজ্জামানের মন্তব্য সরকারকে দুর্নীতি মোকাবেলায় বাস্তবিক পদক্ষেপ নিতে চাপ সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে সিপিআই স্কোরের উন্নতি কি বাস্তবিক নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে হবে, নাকি কেবল অস্থায়ী আন্দোলনের প্রভাবেই থাকবে, তা সময়ই বলবে।
সামগ্রিকভাবে, ড. ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্য দেশের স্বচ্ছতা, দুর্নীতি মোকাবেলা এবং সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরেছে। তিনি পুনরায় জোর দেন, রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও কার্যকর আমলাতন্ত্র ছাড়া কোনো সংস্কার পরিকল্পনা সফল হতে পারে না। এই মন্তব্যগুলো দেশের নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে এবং নাগরিক সমাজের নজরদারির গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করবে।



