ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি উচ্চ পর্যায়ের দল আজ ঢাকা শহরের জামাত‑ই‑ইসলামি কেন্দ্রীয় অফিসে জামাতের আমীর ড. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে। ১৫ জন সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে গঠিত।
দলটি সকাল প্রায় ১১ টার দিকে জামাতের সদর দফতরে পৌঁছে, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সম্মানসূচক স্বাগত জানায়। বৈঠকের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল, এবং উভয় পক্ষের আলোচনার বিষয়বস্তু দু’দেশের স্বার্থে কেন্দ্রীভূত ছিল।
বৈঠকে প্রধানত বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশেষ করে আসন্ন ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই দেশের সংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে।
ইইউ প্রতিনিধি দলটি নিশ্চিত করে যে, নির্বাচনের সময় ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়ে গঠিত একটি দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করবে। এই দলটি নির্বাচনের পূর্বে, চলাকালীন এবং পরবর্তী পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে ভোটের ফলাফলকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাচাই করবে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ‑ইইউ সম্পর্ককে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে আরও মজবুত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করে। বিশেষ করে মানবাধিকার, শাসনব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।
বৈঠকে জামাতের সহকারী সচিব সাধারণ মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সচিব সাধারণ ও কেন্দ্রীয় প্রচার-সংবাদ প্রধান আহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইউরোপ বিষয়ক মুখপাত্র আবু বকর মল্লা, শিক্ষাবিদ জুবায়ের আহমেদ এবং বিদেশি বিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের বাংলাদেশে কার্যক্রমের পরিধি ও তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ দেশীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে উভয় পক্ষই মত পোষণ করেছে।
ইইউ পূর্বে বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়ে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা মূল্যায়ন করেছে। এইবারের ২০০ সদস্যের দলটি পূর্বের তুলনায় বৃহত্তর এবং নির্বাচনের সব ধাপ—প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটদান এবং ফলাফল ঘোষণায়—সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে।
বৈঠকে উল্লিখিত হয়েছে যে, পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি কেবল ভোটের গুণগত মানই নয়, বরং নির্বাচনী আইনের সঠিক প্রয়োগ ও ফলাফলের স্বীকৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
জামাতের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইইউকে ধন্যবাদ জানিয়ে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইইউও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ইইউ পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সমর্থন প্রদান করবে। উভয় পক্ষই আশা করে, এই সহযোগিতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করে তুলবে।



