মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকারের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি স্বাক্ষরের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মিডিয়াকে জানালেন, তিনি দায়িত্ব পালন করতে কোনো প্রচেষ্টা কমিয়ে রাখেননি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত দেড় বছর ধরে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও অনুসন্ধান তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছে, যা কাজের গতি ত্বরান্বিত করেছে এবং পূর্বের ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি স্বীকার করেন, সরকারে যোগদানের সময় কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও ন্যায্যতা ও সততার ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি না করে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব হতো না। তিনি যখনই পরামর্শের প্রয়োজন বোধ করেন, তখনই উপদেষ্টা থেকে আন্তরিক ও প্রজ্ঞাময় নির্দেশনা পান, যা তিনি যথাসাধ্য মানতে চেষ্টা করেছেন।
নতুন সরকার গঠনের পর তিনি নিজের পেশাগত জীবনে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং জনগণকে অনুরোধ করেছেন যে, তার কোনো ত্রুটি থাকলে ক্ষমা করে তাকে ভুলে যাওয়া হোক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করতে চান না এবং ভবিষ্যতে জনসাধারণের দৃষ্টিতে নিজেকে অদৃশ্য রাখতে চান।
অর্থনৈতিক নীতির দিক থেকে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ছোটখাটো কৃষক থেকে বড় উদ্যোক্তা পর্যন্ত সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত নীতি অনুসরণ করছে, যাতে কোনো গোষ্ঠী বাদ না পড়ে। এ ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি, এআরটি চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে, বাংলাদেশের পণ্যসমূহের মার্কিন বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করবে এবং একইসঙ্গে মার্কিন পণ্যের বাংলাদেশে রপ্তানির সুযোগ বাড়াবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এআরটি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি একসাথে বাস্তবায়িত হলে বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে, বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য কম দাম ও বেশি পণ্যের বৈচিত্র্য নিয়ে আসবে। তবে এই সুবিধা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত কাজ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অনুসরণ অপরিহার্য হবে।
শেষে, উপদেষ্টা আশাবাদী যে ভবিষ্যতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখবেন, যাতে বাণিজ্যিক আলোচনায় ধারাবাহিকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সংস্কার অব্যাহত থাকে।



