সোমবার সর্বোচ্চ আদালতের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত পূর্ণ আদালত সভায় অধস্তন দেওয়ানি আদালতের ছুটির সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুসারে, এক মাসের ধারাবাহিক অবকাশের পরিবর্তে ছুটি দুই ভাগে ভাগ করে মোট ৩০ দিন করা হবে।
এই পরিবর্তনটি ১ থেকে ১৫ জুন এবং ১৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে। পূর্বে পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে অবকাশ চলত, যা আদালতের কাজের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলত। নতুন সময়সূচি অনুসারে, জুনের প্রথম অর্ধে এবং ডিসেম্বরের শেষের দুই সপ্তাহে ছুটি থাকবে।
সিদ্ধান্তের কার্যকরী তারিখ ২০২৬ সাল থেকে নির্ধারিত হয়েছে। তাই ২০২৬ সালের পর থেকে অধস্তন দেওয়ানি আদালতগুলো নির্ধারিত দুই সময়সীমায় বন্ধ থাকবে, যা আদালতের কাজের পরিকল্পনা ও কর্মচারীদের ছুটির ব্যবস্থাপনা সহজ করবে।
সপ্তাহের পরের দিন, মঙ্গলবার, সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুন অবকাশ নীতির বিস্তারিত জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্ণ আদালত সভায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ অংশগ্রহণে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সভায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী উপস্থিত বিচারপতিদের অবকাশকালীন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধা সম্পর্কে জানিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আদালতের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ছুটির সময়কে দুই ভাগে ভাগ করা অধিক কার্যকর হবে।
সভায় সর্বোচ্চ আদালতের সচিবালয়ের বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কেও তথ্য শেয়ার করা হয়। প্রধান বিচারপতি জানান যে, ১৩ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী ইতিমধ্যে পদে আছেন, ফলে সচিবালয়ের কাজ সুষ্ঠুভাবে চলমান।
অবকাশ নীতির পরিবর্তনের পাশাপাশি, সচিবালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কেও আপডেট দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন যে, নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং সম্পন্ন হলে সর্বোচ্চ আদালতের রেকর্ড ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় নতুন সচিবালয় স্থাপন করা হবে।
এই উন্নয়ন পরিকল্পনা আদালতের নথি সংরক্ষণ ও পরিচালনা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন তলায় স্থানান্তরের মাধ্যমে কর্মপ্রবাহে উন্নতি এবং তথ্যের দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।
অধস্তন দেওয়ানি আদালতের অবকাশের এই নতুন ব্যবস্থা বিচারিক প্রক্রিয়ার সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দুই ভাগে ভাগ করা ছুটি আদালতের মামলায় বিলম্ব কমিয়ে বিচারিক কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।
অধিকন্তু, আদালতের কর্মচারীদের জন্যও এই পরিবর্তন সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ তারা বছরের দুই ভিন্ন সময়ে দীর্ঘ ছুটি নিতে পারবে, যা ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ও পরিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর, অধস্তন আদালতগুলো নতুন সময়সূচি অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবহিত করা হবে। আদালতের প্রশাসনিক বিভাগ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল আদালতে এই পরিবর্তন সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করেছে।
সর্বোচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচারিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও কর্মপরিবেশের উন্নতি লক্ষ্য করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অবকাশ নীতি সংশোধন বা অন্যান্য প্রশাসনিক পরিবর্তন আসতে পারে, যা বিচারিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে ত্বরান্বিত করবে।



