ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী নীতি নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’ ধারণা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, দল স্বেচ্ছায় নির্বাচন বর্জন করলে কীভাবে তাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ যদি নিজের ভুল স্বীকার না করে এবং অনুশোচনা প্রকাশ না করে তবে দলটি অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণে ফিরে আসতে পারবে না। তিনি যুক্তি দেন, বর্তমান সময়ে দলটি নিজেই চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরোধী একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সম্মেলনটি টিআইবির ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)’ প্রতিবেদন প্রকাশের উপলক্ষে আয়োজিত হয়। প্রতিবেদনের আলোকে ইফতেখারুজ্জামান অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “যদি আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছায় নির্বাচন বর্জন করে, তবে তাদেরকে কীভাবে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়?”
তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “যখন আমরা আজ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে কথা বলি, তখন আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত যে গত ১৬ বছরে আমরা কী করেছি। সেই সময়ে কতজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহস ছিল এটা বলার যে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না?” এভাবে তিনি অতীতের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সমালোচনা করেন।
ইফতেখারুজ্জামান আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ যদিও দাপ্তরিকভাবে ভোট বর্জন করে, তবু পরোক্ষভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, “তারা সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এটি তাদের সমর্থক, দেশি-বিদেশি এজেন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়দাতা দেশগুলোর উৎসাহের মাধ্যমে ঘটছে।”
দলটির ভোটারদের জেলে থাকা অবস্থায় ভোট দেওয়ার বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেন। ইফতেখারুজ্জামান দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার ইতোমধ্যে জেলে থাকা অবস্থায় তাদের ভোট দিয়েছেন, যা দলের প্রকৃত নির্বাচনী অবস্থান নিয়ে সন্দেহ উত্থাপন করে।” তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সেই ভোটাররা ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন; আপনারা নিজেরাই এর প্রতিবাদ করেছিলেন।”
তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতৃবৃন্দের আচরণও ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন। তিনি জানান, “আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা দলীয় ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না, বরং অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন বা তাদের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।” এভাবে তিনি দলের সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বিভাজনকে তুলে ধরেছেন।
ইফতেখারুজ্জামান শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, “যদি আওয়ামী লীগ সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাইতে থাকে, তবে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থায়ী অস্থিরতা এবং ভোটারদের আস্থা হ্রাস পাবে।”
এই মন্তব্যের পর টিআইবির সিপিআই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে দেশের দুর্নীতি সূচক এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের প্রধান দলগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
প্রতিবেদন ও মন্তব্যের পরবর্তী ধাপ হিসেবে টিআইবি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী সংস্কার ও দুর্নীতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তাবনা উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য প্রধান দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে ইফতেখারুজ্জামানের মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচন করেছে।



