অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শ দলকে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেন। ম্যাচটি বুধবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর আর. প্রিমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উভয় দলের র্যাঙ্কিং পার্থক্যও উল্লেখযোগ্য।
অস্ট্রেলিয়া ২০২১ সালের শিরোপা ধারক হলেও, সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরে তারা ৩-০ শূন্যে পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয়ের পর দলটি গুরুত্বপূর্ণ দুই দ্রুতগতি পেসার প্যাট কুমিন্স এবং জোশ হ্যাজলউডের আঘাতজনিত অনুপস্থিতির মুখোমুখি।
নির্বাচনী কমিটি এছাড়াও স্টিভ স্মিথকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও তিনি স্পিনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফর্মে ছিলেন এবং দলের অন্যতম শীর্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত। এই সিদ্ধান্তটি মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।
মার্শের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলকে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে হবে এবং স্পষ্ট পরিকল্পনা মেনে চলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, “অভিযোজন ক্ষমতা আমাদের দলের আলোচনার মূল বিষয়, তাই যে কোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিয়ে কাজ সম্পন্ন করা দরকার।” এই বক্তব্যে তিনি দলের মানসিক প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
কলম্বোর আর. প্রিমাদাসা স্টেডিয়ামের পিচকে ঘূর্ণায়মান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ব্যাটিং ও বোলিং উভয়েরই চ্যালেঞ্জ থাকবে। মার্শের দলকে এই শর্তে কৌশলগতভাবে খেলা এবং সামনে থাকা সুযোগগুলোকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দ্রুতগতি পেসার নাথান এলিসের আঘাত থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার খবরও ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে বিবেচিত। তবে বড় হিটার টিম ডেভিডের আয়ারল্যান্ডের ম্যাচে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই, যা দলের আক্রমণাত্মক ক্ষমতায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
পেসার দলে নাথান এলিসের পাশাপাশি জ্যাভিয়ার বার্টলেট এবং বেন ডোয়ারশুইস অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ডোয়ারশুইস কুমিন্সের শেষ মুহূর্তের বিকল্প হিসেবে যোগদান করেছেন। এই ত্রয়ী তুলনামূলকভাবে অল্প অভিজ্ঞ, তবে মার্শ তাদের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।
মার্শ উল্লেখ করেছেন, “গত বারো মাসে আমরা ১৮ থেকে ২০ জন খেলোয়াড়ের একটি দল গড়ে তুলেছি, যাদের প্রত্যেককে পর্যাপ্ত গেমটাইম দেওয়া হয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বললেন, যদিও কিছু খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কম, তবু তারা দেশীয় স্তরে প্রচুর ক্রিকেট খেলেছে এবং দলের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।
দলটির অভিযোজন ক্ষমতা এবং স্পষ্ট কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি মার্শের মূল বার্তা। তিনি আরও বললেন, “এই শর্তে আমাদের কাজ স্পষ্ট – সামনে থাকা সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে জয় নিশ্চিত করা।” এই দৃষ্টিভঙ্গি দলের মনোভাবকে সমন্বিত করতে সহায়তা করবে।
আয়ারল্যান্ডের বর্তমান বিশ্ব র্যাঙ্কিং ১১, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার র্যাঙ্কিং দ্বিতীয়। র্যাঙ্কিং পার্থক্য সত্ত্বেও, উভয় দলেরই ম্যাচে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খেলতে হবে, কারণ টি২০ ফরম্যাটে কোনো ফলাফলই অপ্রত্যাশিত হতে পারে।
মার্শের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া দল এই ম্যাচে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা উভয়ই পরীক্ষা করার সুযোগ পাবে। তিনি শেষ পর্যন্ত বললেন, “আমরা প্রস্তুত, আমরা অভিযোজিত, এবং আমরা কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত।” এই আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টিভঙ্গি দলকে ইতিবাচকভাবে প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে।



