সিলেট শহরে মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব‑৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী রাষ্ট্রীয় নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালীন অবৈধ অস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই অভিযানটি র্যাব, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত হয়। সমগ্র সিলেট জুড়ে গৃহীত তদারকি, অনুসন্ধান ও তফসি কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের অবৈধ বন্দুক, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। র্যাব‑৯ের তথ্য অনুযায়ী, মোট সংগ্রহের মধ্যে প্রায় আট ভাগই ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে, যা নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে কোনো বৃহৎ হুমকি বা ঝুঁকি চিহ্নিত হয়নি এবং ভোটের দিন পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
অবশ্যই, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সেগুলি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। র্যাব‑৯ের তদারকি দল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হয়েছে, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ব্যাঘাতের সম্ভাবনা কমে গেছে।
সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিকদের বসবাসকারী এলাকায় র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থা নিয়মিত টহল চালিয়ে ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা বজায় রাখছে। এই টহলগুলোতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সম্ভাব্য হুমকি সনাক্তকরণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত। ফলে ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না দিয়ে তাদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই র্যাব‑৯ের কর্মকর্তারা তা দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে জানানো সমস্যাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ত্বরিতভাবে নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করা হবে।
নির্বাচনের সময় সিলেটের প্রতিটি সংসদীয় আসনে র্যাবের দায়িত্ব নির্ধারিত হয়েছে। র্যাব‑৯ের অধিনায়ক জানান, প্রতিটি আসনে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত দল মোতায়েন করা হবে, যাতে ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করা যায় এবং কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয়।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ড্রোন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও রিয়েল‑টাইম ডেটা বিশ্লেষণ টুলের মাধ্যমে সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, বোমা নিষ্কাশন ইউনিটগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য বিস্ফোরক হুমকি দ্রুত নির্ণয় ও নিষ্ক্রিয় করা যায়।
সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও অপপ্রচার রোধের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক তথ্য চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে ভোটারদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক না সৃষ্টি হয়।
সর্বোপরি, র্যাব‑৯ের লক্ষ্য হল নির্বাচনের দিন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা। ভোটারদের মাঠে উপস্থিতি বাড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের সকল ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যাতে সিলেটের জনগণ নির্ভয়ে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পারে।



