মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচটি জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) উপস্থিত থেকে ভোটের দিন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা অতিরিক্তভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং এধরনের প্রস্তুতি দেশের ইতিহাসে প্রথমবার।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ, র্যাঙ্কস, সিভিল সুরক্ষা ও নির্বাচনী কমিশনের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা ও গণভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বৈঠকের শেষে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল কিছু সহিংসতা, তবে এইবার পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং এই সংখ্যার মাত্রা পূর্বের কোনো নির্বাচনকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা বাড়িয়ে ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনের দিন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্ভাবনা কমাতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে নিরাপত্তা বাড়াতে সিসি ক্যামেরা ব্যাপকভাবে স্থাপন করা হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর সুরক্ষা অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হবে, যা রিয়েল‑টাইম পর্যবেক্ষণকে সহজ করবে। ড্রোনের মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেখানে সীমা চিহ্নিত করা হয়নি, সেখানে নতুন বাউন্ডারি স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা ভোটার ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, এই প্রস্তুতির ফলে নির্বাচনের দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, ফলে ভোটারদের উদ্বেগ কমে যাবে এবং তারা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে।
বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তারা এবং বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচটি জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা নিরাপত্তা পরিকল্পনা, জরুরি সাড়া ব্যবস্থা এবং ভোটার সচেতনতায় সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। সকল দপ্তর একত্রে কাজ করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।
এই প্রস্তুতি এবং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্য অনুসারে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ব্যাপক প্রস্তুতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। ভবিষ্যতে এধরনের পরিকল্পনা অন্যান্য নির্বাচনে পুনরায় প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।



