বাংলাদেশে ২০২৫ সালে মোট ২৭,০৫৯টি অগ্নিকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৫টি ঘটনার সমান। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৮৫ জনের মৃত্যু এবং ২৬৭ জনের শারীরিক আঘাত হয়েছে।
মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৪৬ জন পুরুষ এবং ৩৯ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৯৭ জন পুরুষ এবং ৭০ জন নারী অন্তর্ভুক্ত, যা দেখায় যে উভয় লিঙ্গই বিপদের শিকার হয়েছে।
অগ্নি নির্বাপণ কাজের সময় ১৭জন দমকল কর্মী আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তিনজন দমকল কর্মী দায়িত্বকালে প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যা সেবাকর্মীদের ঝুঁকি ও ত্যাগকে তুলে ধরে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি ৩৪.৭১ শতাংশের বেশি ভাগে দায়ী, যেখানে অনিরাপদ তারের সংযোগ, অতিরিক্ত লোড এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে সিগারেটের ছুঁড়ে ফেলা ১৫.৭৮ শতাংশ, রান্নাঘরের চুলা ব্যবহার ১০.৭৫ শতাংশ, গ্যাস সিলিন্ডার লিক ৩.৪০ শতাংশ এবং গ্যাস সরবরাহ লাইনের লিক ২.০৮ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্যগুলো গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
আবাসিক ভবনগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে, যেখানে ৮,৭০৫টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা মোট অগ্নিকাণ্ডের ৩২.১৭ শতাংশ গঠন করে। ঘরবাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এই উচ্চ সংখ্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
পরিবহন খাতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে; ২০২৫ সালে ১৫৩টি বাস, ২১৬টি অন্যান্য গাড়ি, ১০টি ট্রেন, ৪টি লঞ্চ এবং ২টি জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এছাড়াও একটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনা ঘটায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
মৌসুমী প্রবণতা দেখায় যে শুষ্ক মাসগুলোতে, বিশেষ করে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত, অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কম আর্দ্রতা এবং বাড়তি বৈদ্যুতিক ব্যবহার এই সময়ে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
মাসিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ডিসেম্বর (২,৭২৪টি), ফেব্রুয়ারি (২,৮৮৫টি) এবং মার্চ (৩,৫২২টি) মাসে রেকর্ড করা হয়েছে। এই শীর্ষ মাসগুলোতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১২৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
অগ্নিকাণ্ডের উচ্চ ঘনত্ব এবং মৃত্যুর হার বিবেচনা করে, সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।
পাঠকদের জন্য প্রধান টেকঅ্যাওয়ে হল: বাড়িতে বৈদ্যুতিক সিস্টেমের নিয়মিত পরীক্ষা, সিগারেটের ছুঁড়ে ফেলা এড়ানো, গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং শুষ্ক মাসে অগ্নি প্রতিরোধের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা। এই পদক্ষেপগুলো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাণহানি রোধে সহায়তা করবে।



