ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – সর্বোচ্চ আদালত আজ একটি আদেশ জারি করে অধস্তন আদালতগুলোকে ডিসেম্বরের পুরো মাসে বন্ধ না রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালত ব্যবস্থা পুরো দেশের বিচারিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আদালতের এই নির্দেশনা পূর্বে ঘোষিত এক পরিকল্পনা থেকে পরিবর্তন ঘটায়, যেখানে কিছু অধস্তন আদালতকে ডিসেম্বর মাসে আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে আদালত কর্তৃপক্ষের মতে, চলমান মামলার চাপ এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই পরিবর্তন করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী, সকল অধস্তন আদালতকে ডিসেম্বরের প্রতিদিন কার্যকরী রাখতে হবে, তবে জরুরি পরিস্থিতি বা অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে সাময়িক বন্ধের অনুমতি থাকবে। আদালত প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিলম্বের ঝুঁকি কমবে এবং মামলাকারীরা নির্ধারিত সময়ে তাদের অধিকার রক্ষা পাবে। বিশেষ করে, অপরাধ, পারিবারিক ও সিভিল মামলায় দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমে যাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
অধস্তন আদালতগুলোর প্রধান বিচারকরা এই নির্দেশনা স্বাগত জানিয়ে বলছেন যে, তারা যথাসাধ্য প্রস্তুতি নিয়ে ডিসেম্বরের পুরো সময়কালে সেবা প্রদান করবেন। আদালত কর্মীদের অতিরিক্ত শিফট এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে কাজের চাপ সামাল দেওয়া যায়।
সামাজিক সংস্থা ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোও এই রায়কে ইতিবাচকভাবে স্বীকার করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, ধারাবাহিক আদালত সেবা নাগরিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে তারা আদালত ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে আরও পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, কিছু আইনজীবী ও বিচারিক কর্মী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, অতিরিক্ত কাজের চাপের ফলে বিচারিক গুণগত মান হ্রাস পেতে পারে। তারা আদালত ব্যবস্থার যথাযথ সমর্থন ও সম্পদ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেছেন।
বঙ্গাদেশ সরকার এই রায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আদালত ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও সম্পদ সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, আদালত ব্যবস্থার কার্যকরী চালনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করা হবে।
সর্বোচ্চ আদালত এই আদেশের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। আগামী সপ্তাহে আদালত প্রশাসন এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করবে।
এই রায়ের প্রভাব পরবর্তী মাসগুলোতে কীভাবে প্রকাশ পাবে, তা বিচারিক বিশ্লেষক ও নীতি নির্ধারকদের নজরে থাকবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে, অধস্তন আদালতগুলো ডিসেম্বরের পুরো সময়কালে বন্ধ না রাখার সিদ্ধান্তকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



