স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারী ডাক্তারদের পোস্টিং ও ট্রান্সফার প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং রোগীর চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ পোস্টিং ও ট্রান্সফার স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে; কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। সিস্টেমটি একটি ম্যাট্রিক্স-ভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামো ব্যবহার করবে, যা ডাক্তারদের কর্মদক্ষতা ও প্রোফাইলের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবে।
ম্যাট্রিক্সে অন্তর্ভুক্ত হবে ডাক্তারদের পারফরম্যান্স রেটিং, বিশেষ দক্ষতা, সেবায় ব্যয়িত সময়, উচ্চতর যোগ্যতা, কর্মস্থলে অবদান, সেবা প্রদান স্তর এবং কাজের ভৌগোলিক অবস্থান। এসব মানদণ্ডকে সংখ্যাত্মকভাবে পরিমাপ করে একটি সমন্বিত স্কোর তৈরি করা হবে, যা পোস্টিং ও ট্রান্সফার সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের পোস্টিং ও ট্রান্সফার কার্যক্রম প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই সময়সূচি মন্ত্রণালয়ের একটি বৃত্তি মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা রবিবারের অফিসিয়াল নোটিফিকেশন হিসেবে প্রকাশিত হয়।
স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমানের মতে, পূর্বে ডাক্তারদের পোস্টিং ও ট্রান্সফার নিয়ে কোনো স্পষ্ট নীতি না থাকায় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অনিশ্চয়তা দেখা দিত। নতুন নির্দেশিকা শীঘ্রই কার্যকর হবে এবং তা প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
বৃত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্পষ্ট প্রক্রিয়া, একরূপ মানদণ্ড এবং পরিষ্কার নীতি না থাকায় ডাক্তারদের পেশাগত প্রেরণায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই ঘাটতি দূর করতে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে, ডাক্তারদের সন্তুষ্টি, প্রেরণা এবং গতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এজন্য ডাক্তারদের পারফরম্যান্স, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং কর্মস্থলে অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন অপরিহার্য। সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া পোস্টিং ও ট্রান্সফার প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত বলা কঠিন, এবং তা রোগীর সেবার গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে।
ম্যাট্রিক্সটি একটি পরিমাপযোগ্য, স্বচ্ছ এবং একরূপ মূল্যায়ন কাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে সব মানদণ্ডকে সংখ্যায় রূপান্তর করা হবে। এই পদ্ধতি ডাক্তারদের ক্যারিয়ার অগ্রগতি ও সেবা বরাদ্দে ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করবে, পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজকে সহজতর করবে।
নতুন নির্দেশিকায় উল্লেখিত স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে পোস্টিং ও ট্রান্সফার প্রক্রিয়া দ্রুত, ত্রুটিমুক্ত এবং মানবিক হস্তক্ষেপ কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী ডাক্তারদের সঠিক স্থানে স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা স্বাস্থ্যসেবার সমতা ও গুণগত মান উন্নত করবে।
সামগ্রিকভাবে, সরকারী ডাক্তারদের জন্য এই প্রথম সমন্বিত পোস্টিং ও ট্রান্সফার নীতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। রোগী ও ডাক্তার উভয়েরই স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপকে সমর্থন করা উচিত। আপনি কি মনে করেন এই নতুন ব্যবস্থা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানকে আরও উন্নত করবে?



