25 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫ সালের সূচকে বাংলাদেশ ১৩তম স্থানে

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫ সালের সূচকে বাংলাদেশ ১৩তম স্থানে

দ্য ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে (CPI) বাংলাদেশকে বিশ্বের ১৩তম সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই ফলাফল টিআই বাংলাদেশ শাখা ঢাকা, ধানমন্ডি এলাকার মিডাস হাউসে আজ সকালে প্রকাশ করেছে। সূচকের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে টিআই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন এবং ফলাফল উপস্থাপন করেন।

CPI একটি আন্তর্জাতিক সূচক, যা ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে গড়া হয়। সূচকটি সরকারি সেক্টরের দুর্নীতির ধারণা মাপতে ০ থেকে ১০০ পয়েন্টের স্কেল ব্যবহার করে; ০ মানে অত্যন্ত উচ্চ দুর্নীতি, আর ১০০ মানে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা। এই পদ্ধতিতে দেশগুলোকে তুলনা করা হয় এবং মোট ১৮২টি দেশ ও অঞ্চলকে র‍্যাঙ্ক করা হয়।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ ২৪ পয়েন্ট স্কোর অর্জন করেছে, যা পূর্ববছরের ২৩ পয়েন্টের তুলনায় এক পয়েন্ট বৃদ্ধি। তবে স্কোরের সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি ঘটেছে; ২০২৪ সালে ১৪তম স্থানে থাকা দেশটি এখন ১৩তম স্থানে নেমে এসেছে। এই র‍্যাঙ্কিং পরিবর্তন দেশটির আন্তর্জাতিক দুর্নীতি ধারণা ক্ষেত্রে অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

টিআই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দুর্নীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাচ্ছি। আমাদের স্কোর প্রত্যাশার চেয়ে কম এবং তা খুবই হতাশাজনক।” তিনি উল্লেখ করেন যে সরকারকে দুর্নীতি মোকাবেলায় ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

টিআই অনুসারে, CPI বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির প্রবণতা, উন্নতি ও হ্রাসের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রদান করে। সূচকটি দেশভিত্তিক, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্তরে দুর্নীতির মূল কারণগুলোকে আলোকপাত করে, যা নীতি নির্ধারক ও নাগরিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র।

দলীয় বিশ্লেষক ও বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কিছু সদস্য এই ফলাফলকে সরকারের দুর্নীতি মোকাবেলায় ব্যর্থতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করেন যে দুর্নীতির ধারণা উন্নত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো জরুরি, নতুবা জনগণের বিশ্বাস ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো উক্তি উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই র‍্যাঙ্কিংয়ের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবও তীব্র। পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে দুর্নীতি বিষয়টি বিরোধী দলগুলোর জন্য প্রভাবশালী প্রচারণা সরঞ্জাম হতে পারে, এবং সরকারকে দুর্নীতি বিরোধী নীতি ও আইন প্রণয়নে ত্বরান্বিত করতে চাপ দিতে পারে। বিশেষ করে, দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার সুপারিশ অনুসারে পাবলিক সেক্টরের তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার হতে পারে।

সরকারের দিক থেকে, টিআইয়ের এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য নতুন কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনে এই বিষয়টি আলোচনার সূচিতে যুক্ত হতে পারে, যেখানে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালের CPI তে বাংলাদেশ ১৩তম স্থানে অবস্থান করলেও স্কোরের সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি ঘটেছে। এই ফলাফল সরকার, বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের জন্য দুর্নীতি মোকাবেলায় ত্বরিত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ও অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments