ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ছুটির আগের দিন, মঙ্গলবার সকালে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশা চললেও, গণপরিবহনের গতি হ্রাস পায় এবং অনেক অফিস কর্মী যাতায়াতের সমস্যার মুখোমুখি হয়।
সকাল ৯টায় শ্যামলীর শ্যামলী রোডে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করে উত্তরা যাওয়ার বাসে চড়তে না পারা এক বেসরকারি চাকুরীজীবী দীপন, ভিড়ের কারণে আসন্ন বাসগুলোতে চড়ার সুযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় অফিসে পৌঁছান। তিনি জানান, “এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও কোনো বাস পাইনি, দু’টি বাসই ভিড়ের কারণে ভর্তি ছিল না, তাই বাধ্য হয়ে অটোরিকশা ব্যবহার করতে হলো”।
বিজয় সরণির নিকটবর্তী ভূঁইয়া এলাকায়, পরিবহন চালকের সহকারী নূর উদ্দিন উল্লেখ করেন যে, অনেক গাড়ি পুলিশ রিকুইজিশন করেছে এবং অফিস সময়ে যাত্রী কম থাকায় বেশিরভাগ বাসই সড়কে নামায়নি। গৃহস্থালির কর্মচারীদের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন প্রধান বিকল্প হয়ে উঠেছে, কারণ নিয়মিত বাসের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
গ্লাশান জোনের ট্রাফিক সহকারী কমিশনার আবুসায়েম নয়ন জানান, “অনেক মানুষ ভোট দিতে ঢাকায় থেকে গিয়েছে, আর যারা দরকার নেই তারা বের হচ্ছেন না, ফলে সড়কে স্বাভাবিকভাবে চাপ কমে গেছে”। তিনি যোগ করেন, নির্বাচনের পর গাড়ি চলাচলের অনুমতি না থাকায় শহরের বাসগুলো শিল্পাঞ্চলের ছুটির সঙ্গে সঙ্গে শহরের বাইরে চলে গেছে এবং এখনো ফিরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই।
শহরের বাস টার্মিনালগুলোতে ছুটির দিনগুলোতে ফিরে আসা যাত্রীদের প্রবাহ দেখা গেল, তবে প্রধান মহাসড়কে যানজটের খবর পাওয়া যায়। শিল্পাঞ্চলের ছুটির ফলে সিটি বাসের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, ফলে রুটে অপেক্ষমান যাত্রীদের সংখ্যা বাড়ে এবং রিকশা ও অটোরিকশার চাহিদা বেড়েছে।
দূরপাল্লা বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণের অভিযোগ উঠেছে। ধোলাইপাড়া এলাকায় অপেক্ষমান একজন যাত্রী জানান, “ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর ভাড়া সাধারণত ৫০০ টাকা, আজ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে”। একই সময়ে মহাখালী থেকে টঙ্গি পর্যন্ত বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যদিও বাসের সংখ্যা কম।
যাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, ভাড়া বৃদ্ধি ও অপ্রতুল সেবা সম্পর্কে অভিযোগ গৃহীত হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চালু করা হবে। আইন অনুযায়ী, অনিয়মিত ভাড়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে ট্রান্সপোর্ট অথরিটি ও পুলিশ তদারকি করবে।
পুলিশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রী নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত গাড়ি চালু করা সম্ভব না হওয়ায়, রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের উপর নজরদারি বাড়ানো হবে। এছাড়া, দূরপাল্লা বাসের ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রান্সপোর্ট অথরিটি জরুরি নির্দেশনা জারি করতে পারে।
এই পরিস্থিতি নির্বাচনের পরবর্তী দিনগুলোতে কেমন পরিবর্তন হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় কষ্ট কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবে।



