জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী সপ্তাহে, বাংলাদেশ পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলমের নির্দেশে ৮,৭৭০টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটিত সহিংসতার ধারাবাহিকতা এবং নিরাপত্তা ফাঁকফোঁকরির উদ্বেগ রয়েছে। ভোটের স্বচ্ছতা ও নাগরিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
আইজিপি বাহারুল আলমের মতে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডি ক্যামেরা এবং ড্রোনের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। বডি ক্যামেরা ভোটার ও কর্মীদের সঙ্গে সংলাপ রেকর্ড করবে, আর ড্রোন উচ্চ পর্যবেক্ষণ সরবরাহ করে সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করতে সহায়তা করবে। এই প্রযুক্তিগত পদক্ষেপগুলো ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা স্তরকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মীসংখ্যা বাড়িয়ে, এই নির্বাচনে মোট ১,৮৭,৬০৩ জন বাংলাদেশ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত কর্মীকে ভোটকেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ দল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সে ভাগ করা হবে, যাতে প্রতিটি স্তরে পর্যাপ্ত নজরদারি নিশ্চিত করা যায়।
বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো তিনটি প্রধান স্তরে গঠিত: ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আশেপাশের ভ্রাম্যমাণ দল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স। ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে সিসিটিভি ক্যামেরা ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে, যা রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তা করবে।
সিসিটিভি ক্যামেরা ছাড়াও, ভোটকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং ধ্বনিগত সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এই ব্যবস্থা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সম্ভাব্য হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের দ্রুত সনাক্তকরণে সহায়তা করবে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৩১৭টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু এবং ৬০৩ জনের আঘাত হয়েছে। বেশিরভাগ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজনৈতিক সমাবেশ ও ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে, যেখানে দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন।
এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে, নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারীরা বলছেন যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে ভোটের ফলাফল ও জনমত গঠনে প্রভাব পড়তে পারে। তাই, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তি-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর সমন্বয়ও বাড়ানো হবে। স্থানীয় সরকার কর্মকর্তারা ভোটের দিন বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে, প্রয়োজনীয় রিসোর্স ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।
বাহারুল আলমের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, “এই নির্বাচনকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।” তিনি আরও যোগ করেন, “সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিরাপত্তা সংস্থার দৃঢ় সংকল্প স্পষ্ট হয়েছে।
অতএব, ভোটের দিন নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে, ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করা হবে। জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে হেলিকপ্টার ও গাড়ি চালিত ইউনিটগুলো প্রস্তুত থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই ব্যাপকতা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যদি কোনো দল বা প্রার্থী নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে অভিযোগ করে। তাই, সকল রাজনৈতিক দলকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা মেনে চলতে এবং ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ, বডি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার, এবং ১,৮৭,৬০৩ জন পুলিশ সদস্যের মোতায়েনের মাধ্যমে, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ পুলিশ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপগুলো ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা করবে।



