গুলশানের বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জামাতের ভোট কেনার অভিযোগ তুলে দলীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের কথা জানিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
মাহাদী আমিন উল্লেখ করেন, জামাতের কিছু নেতা ও কর্মী নির্বাচনী প্রচারণার সময় অর্থ দিয়ে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, এমনকি শিশুদেরও প্রলুব্ধ করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এটিকে নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে, “এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে” বলে সমালোচনা করেন।
বিএনপি মুখপাত্রের মতে, জামাতের এই ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ এবং জনবিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলা দল যদি ভোটের মাঠে একইভাবে দুর্নীতি ব্যবহার করে, তবে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা আর কী হতে পারে”।
মাহাদী আমিন আরও যোগ করেন, যদি জামাতের দলীয় প্রধানের আসনসহ দেশব্যাপী ভোট কেনার প্রচেষ্টা চালু থাকে, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, “নির্বাচনী আচরণবিধির এই লঙ্ঘন একাধিক স্তরে জনসাধারণের আস্থা ক্ষয় করে”।
বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, “যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গঠনমূলক হয়, তবে ফলাফল যাই হোক না কেন, আমরা তা মেনে নেব” বলে দলীয় মুখপাত্রের মন্তব্য। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “নির্বাচনী পরিবেশে যে গণজোয়ার বয়েছে, তাতে বিএনপির জয় অনিবার্য” এবং “উৎসবমুখর পরিবেশ রয়েছে, আশা করি সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন”।
মাহাদী আমিনের বক্তব্যের পাশাপাশি, বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন যে, “বিএনপির নাম কখনোই এই বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি”। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও গঠনমূলক নির্বাচন হলে, ফলাফল যাই হোক না কেন, আমরা তা মেনে নেব এবং জয় আমাদেরই হবে”।
মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, গুলশানের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা লক্ষ্য করেন যে, মাহাদী আমিনের টোনে দৃঢ়তা এবং সতর্কতার মিশ্রণ ছিল। তিনি জামাতের কর্মকাণ্ডকে “দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন” হিসেবে চিহ্নিত করে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিএনপি এই মুহূর্তে নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভোটারদের শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। দলীয় মুখপাত্রের মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হলে, ফলাফল যাই হোক না কেন, তা স্বীকার করা হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান বজায় থাকবে।
মাহাদী আমিনের মন্তব্যের পর, জামাতের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই ধরনের উক্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় উভয় দলের মধ্যে তীব্রতা বাড়াতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি করতে পারে।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, উভয় দলই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে ভোট কেনার অভিযোগ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।
বিএনপি শেষবারের মতো জোর দিয়ে বলেছে, “যদি নির্বাচন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়, তবে আমরা ফলাফল মেনে নেব এবং দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ চালিয়ে যাব”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলটি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, তা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।



