২০৯৯ সালের কল্পিত ভবিষ্যতে ট্রান্স‑অ্যাটলান্টিক রিটার্নস চুক্তির শর্তে পশ্চিমা জাদুঘরগুলো চুরি করা আফ্রিকান ধন‑সম্পদ ফেরত দিতে বাধ্য। এই পরিস্থিতি থেকে বিরক্ত হয়ে প্রফেসর গ্রেস, একজন আর্টিফ্যাক্ট বিশেষজ্ঞ, তার নাতি-নাতনি নোমালি ও ট্রেভার এবং প্রাক্তন ছাত্র এটিয়েনের সাহায্যে একটি চুরি‑ফেরত পরিকল্পনা গড়ে তোলেন। গেমটি ‘রিলুটেড’ নামে পরিচিত এবং মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে, যা আফ্রিকান‑ফিউচারিস্ট হেইস্ট গেমের নতুন উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
গেমের কাহিনী জোহানসবার্গের একটি পরিত্যক্ত গুদামে শুরু হয়, যেখানে প্রফেসর গ্রেস একটি উচ্চ‑ঝুঁকির অপারেশন চালু করেন। লক্ষ্য হল ঔপনিবেশিক সময়ে চুরি করা বস্তুগুলোকে জাদুঘর ও ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে পুনরুদ্ধার করা। এই কাজটি বাস্তব নয়, বরং গেমের বর্ণনামূলক কাঠামো, যা খেলোয়াড়কে ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতা দেয়।
খেলোয়াড়ের দৃষ্টিকোণ থেকে নোমালি, একজন স্পোর্টস সায়েন্টিস্ট, প্রধান চরিত্র হিসেবে কাজ করে। তিনি পার্কোর দক্ষতা ব্যবহার করে দৌড়, লাফ, চড়াই‑নামাই এবং বাধা অতিক্রম করে মোট ৭০টি আফ্রিকান পবিত্র ও সাংস্কৃতিক বস্তু সংগ্রহ করেন। নোমালির চরিত্রটি গেমের ন্যারেটিভ ডিরেক্টর মোহালে মাশিগো উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রথম হেইস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে অংশ নেন, যাতে কাজের ঝুঁকি প্রকাশ পায় এবং পরিবারকে রক্ষা করা যায়।
নোমালির ভাই ট্রেভার, একজন লকস্মিথ এবং সিকিউরিটি সিস্টেমের বিশেষজ্ঞ, গেমের ভিতরে ও বাইরে প্রবেশে সহায়তা করেন। তার প্রযুক্তিগত জ্ঞান গেমের বিভিন্ন সিকিউরিটি সিস্টেমকে ভেঙে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ট্রেভার এবং নোমালি একসাথে জাদুঘরের গোপন পথ ও সুরক্ষিত কক্ষগুলোতে প্রবেশের পরিকল্পনা করেন।
এটিয়েন, যিনি বেলজিয়াম‑ব্রিটিশ পটভূমির, গেমের ‘ইনসাইড ম্যান’ হিসেবে কাজ করেন এবং গেমের অভ্যন্তরীণ তথ্য সরবরাহ করে। তার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নোমালি ও ট্রেভারকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়, যা অপারেশনের সফলতা নিশ্চিত করে। এই সহযোগিতা গেমের আন্তঃখণ্ডীয় সংযোগকে তুলে ধরে।
ক্যামেরুনের নডেডি, আরেকজন প্রধান চরিত্র, তার এক্রোবেটিক দক্ষতা দিয়ে সবচেয়ে জটিল পালানোর দৃশ্যগুলো সম্পন্ন করেন। নডেডি গেমের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং রুটে দ্রুত ও সুনিপুণভাবে চলতে সক্ষম, যা গেমের অ্যাকশন উপাদানকে সমৃদ্ধ করে। তার উপস্থিতি গেমের বৈচিত্র্যপূর্ণ আফ্রিকান চরিত্রের সমাবেশকে জোরদার করে।
গেমের মূল বৈশিষ্ট্য হল হেইস্টের শেষে কোনো বড় অর্থের পুরস্কার না থাকা এবং চরিত্রগুলো অপরাধী না হওয়ায় নৈতিক দিক থেকে আলাদা। তাদের লক্ষ্য আর্থিক লাভ নয়, বরং ঔপনিবেশিক শোষণের ফলে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি গেমকে প্রচলিত হেইস্ট গেমের তুলনায় ভিন্ন করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক ট্রান্স‑অ্যাটলান্টিক রিটার্নস চুক্তির সংশোধনী অনুযায়ী শুধুমাত্র জনসাধারণের প্রদর্শনীতে থাকা বস্তুগুলোই ফেরত দিতে হবে, ফলে জাদুঘরগুলো এখন সেগুলোকে সংরক্ষণাগারে সরিয়ে দিচ্ছে। এই পরিবর্তন গেমের গল্পে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে, কারণ চরিত্রগুলোকে সঞ্চিত বস্তুগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হয়। গেমটি এই বাস্তব নীতির উপর ভিত্তি করে কাল্পনিক কিন্তু প্রাসঙ্গিক দৃশ্য তৈরি করেছে।
‘রিলুটেড’ গেমটি আফ্রিকান ফিউচারিজমের একটি নতুন প্রকাশ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং গেমের প্রকাশের দিনই মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। গেমের ডিজাইন দল আফ্রিকান সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক স্মৃতিকে আধুনিক গেমপ্লে মেকানিক্সের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। এই প্রচেষ্টা গেমের ভক্তদের পাশাপাশি সংস্কৃতি সংরক্ষণে আগ্রহী জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গেমের প্রকাশের পর থেকে আফ্রিকান শিল্প ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে, যেখানে গেমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে বাস্তব ধন‑ফেরত উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালু হয়েছে। গেমটি কেবল বিনোদন নয়, বরং ঐতিহাসিক পুনর্বিবেচনার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।



