মঙ্গলবার সকালবেলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রায় একুশটি জেলার ভোটাররা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে গ্রাম‑গ্রামে ফিরে ভোট দিতে গিয়েছেন। গাড়ি, পিক‑আপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরণের যাত্রীবাহী যানবাহন রাস্তায় ভিড় তৈরি করেছে, যা সাধারণ দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ট্রাফিক সৃষ্টি করেছে।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাসিন্দা নোয়াব আলী, যিনি ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন, পিক‑আপে করে পাটুরিয়া ঘাটের পথে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, “অফিসের ছুটি ভোটের জন্য, তাই বাড়ি গিয়ে ভোট দেব। সকালবেলা নবীনগরে গাড়ি না পেয়ে পিক‑আপে করে গিয়ে আনন্দের সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছেছি।” তার মতোই বহু কর্মী ও কৃষক বাস‑সেবা না পেয়ে বিকল্প রূপে পিক‑আপ ও মোটরসাইকেল বেছে নিয়েছেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ‑পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জানিয়েছেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে দক্ষিণ‑পশ্চিমের প্রায় একুশটি জেলার মানুষ গমন‑গমনের জন্য রওনা হয়েছে। গতকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) রেকর্ডকৃত গাড়ি ও যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে রাস্তায় গতি ধীর হয়ে গিয়েছে।
সকালবেলায় পাটুরিয়া‑দৌলতদিয়া নৌরুটের দিকে অগ্রসর হওয়া গাড়িগুলোকে দেখা গিয়েছে। পিক‑আপ (ছোট ট্রাক) ছাড়াও অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এই রকম ভিড়ের মধ্যে কিছু গাড়ি নবীনগরে জ্যাম ভোগ করলেও, বেশিরভাগই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত রেজাউল করিম সবুজ, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি জানান, “ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছি, এটা আমার অধিকার। ভোরে বের হয়েছি, নবীনগরে কিছুটা যানজট ছিল, তবুও বাড়ি ফিরে সবাইকে দেখার এবং পছন্দের প্রার্থীর কাছে ভোট দেওয়ার আনন্দ পাচ্ছি।” তার মতই বহু ভোটারই এই সুযোগে পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশায় রওনা হয়েছেন।
মানিকগঞ্জের গোলড়া হাইওয়ে থানার ওয়াইস কমান্ডার (ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ উল্লেখ করেন, “ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের পরিমাণ বেশি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের মোবাইল টিম ও এএমবিএস টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।” তিনি অতিরিক্তভাবে জানান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত সিগন্যাল ও রোড সাইড সহায়তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ডি.জি.এম. আব্দুস সালাম জানান, “যানবাহন ও যাত্রীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি, তবে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পারাপারের জন্য ১৪টি ছোট‑বড় ফেরি চলাচল করছে।” তিনি যোগ করেন, ফেরিগুলো সময়মতো চলাচল নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ক্রু ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যবেক্ষণকৃত তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, ভোটের দিন নাগাল পেতে মানুষ রওনা হওয়ার সময়ই রুটের চাপ বাড়ছে। এই প্রবাহের ফলে রাস্তায় গতি কমে যাওয়া সত্ত্বেও, অধিকাংশ ভোটার সময়মতো তাদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিক‑আপ ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী ভোটারদের সংখ্যা বাড়ি‑ফেরার প্রধান উপায়ে রূপান্তরিত হয়েছে, যা সরকারি বাস পরিষেবার ঘাটতি পূরণে স্বতঃস্ফূর্ত সমাধান হিসেবে দেখা যায়। এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী পরিবহন ব্যবস্থা ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করছে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গতি কমে যাওয়া ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি সত্ত্বেও, ভোটারদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পুলিশ ও নৌ‑পরিবহন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। উভয় সংস্থা ভবিষ্যৎ ভোটের দিনেও একই রকম সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই বৃহৎ পরিসরের গ্রামযাত্রা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের মাত্রা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটারদের বাড়ি-ফেরার এই প্রবাহের ফলে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে প্রভাব পড়তে পারে, তবে তা নিশ্চিত করতে সময়ই বলবে।



