ঢাকা—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট স্বাস্থ্য বাজেট প্রায় টাকার ৪২,০০০ কোটি, যার মধ্যে প্রায় অষ্টানব্বই শতাংশ অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে নষ্ট হচ্ছে। এই ক্ষয়ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির ফল বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।
বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানের সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লাবাইড গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর উল্লেখ করেন, গত দুই দশকে অবকাঠামো ও কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বেসরকারি সেক্টর এখন মোট স্বাস্থ্যসেবার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে।
সেক্টরের এই সম্প্রসারণ সত্ত্বেও, বাজেটের বড় অংশ অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় এবং ব্যবহারহীন সম্পদে আটকে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রায়ই সঠিক সময়ে ব্যবহার না পেয়ে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, যখন অপ্রয়োজনীয় আইটেমগুলো অতিরিক্ত খরচে কেনা হয়।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে, দেশের স্বাস্থ্যসেবার স্বনির্ভরতা বাড়ছে বলে মনে করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, পূর্বে রোগীরা চিকিৎসা সেবার জন্য ভারতীয় হাসপাতালগুলোতে ভিসা নিয়ে যেতেন, কিন্তু গত এক বছর অর্ধেকের কম সময়ে এই ভিসার সংখ্যা দশগুণ কমে গিয়েছে।
এই হ্রাস সত্ত্বেও, দেশের স্বাস্থ্যসেবা কোনো বড় ব্যাঘাতের সম্মুখীন হয়নি, যা নির্দেশ করে যে দেশীয় সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একসময় জরুরি চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র ছিল, তবে এখন বেসরকারি হাসপাতাল যেমন স্কোয়ার ও লাবাইড রোগীদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তন রোগীর দ্রুত ও বিশেষায়িত সেবা পাওয়ার ইচ্ছা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নত সুবিধার ফল।
বেসরকারি সেক্টরের এই উত্থান সত্ত্বেও, বাজেটের বিশাল অংশের অপচয় একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবহারহীন অবস্থার ফলে সম্পদের অপচয় বাড়ছে।
বাজেটের অদক্ষ ব্যবহার শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যখন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার না হয়, তখন রোগীর সেবা সময় বাড়ে এবং চিকিৎসার ফলাফল কমে যায়।
নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোর দুর্বলতা এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থা এই সমস্যাগুলোকে বাড়িয়ে তুলছে। যথাযথ তদারকি ও পরিকল্পনা না থাকায় বাজেটের বড় অংশ অপ্রয়োজনীয় খরচে ব্যয় হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সম্পদের সঠিক বরাদ্দ এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ প্রয়োজন। বাজেটের বর্জ্য কমিয়ে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান উন্নত করা সম্ভব হবে যদি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে পুনর্গঠন করা হয়।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বাজেটের প্রায় অষ্টানব্বই শতাংশ অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে নষ্ট হচ্ছে, যদিও অবকাঠামো ও কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বেসরকারি সেক্টর সেবার বড় অংশ সরবরাহ করছে। নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনা শক্তিশালী করে এই বর্জ্য কমানো এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।



