গায়িকা চ্যাপেল রোয়ান আজ তার ট্যালেন্ট এজেন্সি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা কেইসি ওয়াসারম্যানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তিনি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন যে, আজ থেকে তিনি আর ওয়াসারম্যানের এজেন্সির অধীনে কাজ করবেন না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি শিল্পের নৈতিক মান রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
রোয়ান তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, শিল্পে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হলে দায়িত্বশীলতা এবং জবাবদিহিতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, একটি শিল্পী, এজেন্ট বা কর্মচারীকে এমন কোনো কাজকে সমর্থন বা উপেক্ষা করতে বলা উচিত নয়, যা তাদের নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
বিবৃতি প্রকাশের সময় রোয়ান কোনোভাবে জেফ্রি এপস্টেইনের ফাইল বা গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ওয়াসারম্যানের সংযোগের উল্লেখ করেননি। তার পোস্টে শুধুমাত্র তার নিজস্ব নৈতিক দায়িত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে রোয়ান আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো শিল্পী বা তার দলের সদস্যকে এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা উচিত নয়, যেখানে তাদের নৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কাজের প্রতি সমর্থন দেখাতে হয়। এই বক্তব্য শিল্পের ভিতরে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
বিবৃতি প্রকাশের পর বিএসসি এই বিষয়টি নিয়ে ওয়াসারম্যানের কাছ থেকে কোনো মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছে, তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
কেইসি ওয়াসারম্যানের নাম সাম্প্রতিক এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে উঠে এসেছে, যেখানে গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার ফ্লার্টি ইমেইলগুলো প্রকাশিত হয়েছে। এই ইমেইলগুলো প্রকাশের পর ওয়াসারম্যানের নেতৃত্বাধীন এজেন্সি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
ওয়াসারম্যানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি এই ইমেইলগুলোকে দুই দশক আগে, যখন ম্যাক্সওয়েল এখনও অপরাধের শিকার ছিলেন না, তখনের যোগাযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।
ওয়াসারম্যান অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ২০০২ সালে তিনি ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের একটি মানবিক মিশনে অংশ নেন এবং এ সময় এপস্টেইনের প্লেনে ভ্রমণ করেন। তিনি এই সংযোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন যে, তার কোনোভাবে এই দুই ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে।
লস এঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিকের চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়াসারম্যানের ভূমিকা রয়েছে, এবং এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশের পর থেকে তার পদ থেকে সরে যাওয়ার দাবি বাড়ছে। যদিও কোনো ভিকটিমের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবু তার নামের উপস্থিতি জনমতকে প্রভাবিত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, কোনো ব্যক্তির নাম ফাইলে উপস্থিত থাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধের ইঙ্গিত দেয় না, তবে জনসাধারণের বিশ্বাস বজায় রাখতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
রোয়ানের সিদ্ধান্তের পর, ওয়াসারম্যানের অধীনে কাজ করা দুইটি ব্যান্ডও তাদের নিজস্ব বিবৃতি প্রকাশ করে একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা শিল্পের নৈতিক মানদণ্ডকে পুনর্নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর শিল্পের অভ্যন্তরে নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। শিল্পী, এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এখন তাদের কাজের পেছনের নৈতিক দিকগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিতর্কের পুনরাবৃত্তি না হয়।



