25 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিএনসিপি জোটে যাওয়ায় তরুণ ভোটারদের বিশ্বাসে ঢিলা

এনসিপি জোটে যাওয়ায় তরুণ ভোটারদের বিশ্বাসে ঢিলা

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের পর তরুণ ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তন নিয়ে এক বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়। বিশ্লেষণটি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও এবং শাহীদ মীর মুগ্ধর জমজ ভাই মীর স্নিগ্ধের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।

মীর স্নিগ্ধ, যিনি নভেম্বর ২০২৫-এ বিএনপিতে যোগদান করেন, তার পোস্টে এনসিপির স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখতে পারলে পার্টি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দৃশ্যে অনন্য অবস্থান অর্জন করতে পারত, এমন ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পার্টির মূল বৈশিষ্ট্য হারিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এনসিপির প্রতি আগ্রহী ছিল, তবে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর সেই আগ্রহে সন্দেহের ছায়া পড়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতার দ্রুত পথে অগ্রসর হতে চাওয়া ভোটাররা রাজনৈতিক বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে ভবিষ্যতে পার্টির স্থায়িত্ব বিপন্ন হয়।

মীর স্নিগ্ধের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সমসাময়িক বন্ধু ও ছোট-বড় সহকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনী আলোচনা চলাকালে তিনি একটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ‘জেনারেশন জেড’ এর একটি বড় অংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছিল, কারণ তারা পুরোনো রাজনীতির বাইরে নতুন কিছু করার আশা পোষণ করছিল।

এই প্রজন্মের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল পার্টির স্বতন্ত্রতা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। তবে জোটবদ্ধ হওয়ার পর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সেই উদ্দীপনা হ্রাস পায়। মীর স্নিগ্ধের মতে, এখন বেশিরভাগ তরুণ যখন ভোটের কথা ভাবেন, তখনই তারা একই রকম উত্তর দেন—‘প্রথমে এনসিপিকে দেব ভাবছিলাম, এখন আবার ভাবছি’।

এই অনিশ্চয়তাকে তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করেন। মীর স্নিগ্ধের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এনসিপির এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে বড় ভুল সম্ভবত জোটে যাওয়া। তিনি যুক্তি দেন, যদি পার্টি এককভাবে তার স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখত, তবে যদিও বড় জয় না পেলেও ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক রঙে ‘এনসিপি-সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার সম্ভাবনা থাকত।

বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এনসিপি জোটে যোগ দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে অংশ নিতে চেয়েছিল, যা তাকে বৃহত্তর প্রভাবের সুযোগ দিতে পারে। তবে মীর স্নিগ্ধের মতে, এই কৌশল পার্টির স্বকীয়তা ক্ষয় করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোটারদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

মীর স্নিগ্ধের পোস্টের শেষ অংশে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতার নিকটবর্তী হতে তাড়াহুড়ো করলে ভোটারদের বিশ্বাস ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, ফলে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তিনি এই পর্যবেক্ষণকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং সময়ের সাথে সাথে এর প্রকৃত ফলাফল স্পষ্ট হবে বলে ইঙ্গিত দেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় তরুণদের একটি বড় অংশ এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শে আকৃষ্ট ছিল। এই গোষ্ঠীও জোটের সিদ্ধান্তের পর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে, যা পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে এনসিপি কীভাবে তার স্বতন্ত্রতা পুনরুদ্ধার করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পার্টি যদি আবার স্বতন্ত্র নীতি ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে পারে, তবে তরুণ ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে।

অবশেষে, মীর স্নিগ্ধের মন্তব্যের ভিত্তিতে বলা যায়, জোটে যাওয়ার ফলে এনসিপি যে রাজনৈতিক সুযোগ হারিয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হতে পারে। তবে পার্টি যদি ভবিষ্যতে স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে নতুন কৌশল গ্রহণ করে, তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পুনরায় বিশ্বাস জাগ্রত করা সম্ভব হতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments