25 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্ট স্বীকৃতি দিল সমলিঙ্গ দম্পতিকে সম্পত্তি সহ-মালিকানা

ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্ট স্বীকৃতি দিল সমলিঙ্গ দম্পতিকে সম্পত্তি সহ-মালিকানা

ফিলিপাইনের সর্বোচ্চ আদালত ৫ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করে, যেখানে সমলিঙ্গ দম্পতিকে সম্পত্তি সহ-মালিকানা অধিকার দেওয়া হয়েছে। আদালত এই সিদ্ধান্তে পরিবার কোডের একটি ধারা প্রথমবার প্রয়োগ করে, যা পূর্বে শুধুমাত্র বৈবাহিক দম্পতিদের জন্য বিবেচিত হতো। রায়টি ম্যানিলার এক উপশহরে বসবাসকারী দুই নারী জুটির সম্পত্তি বিরোধের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।

ফিলিপাইনের পরিবার কোডে বিবাহকে পুরুষ ও নারীর মধ্যে বন্ধন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তবে ধারা ১৪৮ সমবায় জীবনযাপনকারী ব্যক্তিদের সম্পত্তি সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধারাটি পূর্বে লিঙ্গভিত্তিক কোনো পার্থক্য না করে সকল সহ-অবস্থানকারী দম্পতিকে অন্তর্ভুক্ত করে বলে ব্যাখ্যা করা হয়। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে যে, এই ধারার প্রয়োগে লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যায় না।

বিবাদে জড়িত দুই নারী প্রথমে বাড়ি বিক্রি করার জন্য একমত হন, তবে পরে একজন নারী বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে অপর নারী নিম্ন আদালতে সম্পত্তি ভাগের দাবি দায়ের করেন, কিন্তু নিম্ন আদালত ও আপিল কোর্ট উভয়ই সেই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দম্পতি উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উভয় পক্ষের প্রদত্ত নথিপত্রের ভিত্তিতে দেখা যায়, একজন অংশীদার সম্পত্তি ক্রয় ও সংস্কারের খরচের অর্ধেক বহন করেছেন। যদিও সম্পত্তি কেবল একজনের নামে নিবন্ধিত ছিল, তবে আদালত স্বীকার করেছে যে, নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য এবং বিবাহবিহীন অবস্থায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এ ধরনের নথি আদালতের রায়ে মূল প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।

আদালত রায়ে স্পষ্ট করে বলেছে যে, ধারা ১৪৮ সকল সহ-অবস্থানকারী দম্পতিকে সমানভাবে প্রযোজ্য, লিঙ্গ নির্বিশেষে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সমলিঙ্গ দম্পতি এখন আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পত্তি ভাগাভাগি ও সহ-মালিকানা দাবি করতে পারবে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধারার সীমাবদ্ধতা না রেখে সমলিঙ্গ সম্পর্ককে স্বীকৃতি না দিলে সমাজের কিছু বৈধ সম্পর্ককে অদৃশ্য করে তোলা হবে।

সহ-অবস্থানকারী বিচারপতি মারভিক লিওনেন রায়ে জোর দিয়ে বলেছেন, যদি ধারা ১৪৮ লিঙ্গভিত্তিকভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে সমাজের কিছু বৈধ অন্তরঙ্গ সম্পর্ককে আইনি দৃষ্টিতে অদৃশ্য করা হবে। তিনি এই রায়কে সমলিঙ্গ দম্পতির অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্য বিচারপতি অ্যামি লাজারো জাভিয়ের রায়ে যুক্তি দেন যে, আধুনিক সমাজের মূল্যবোধ ও বাস্তবতা বিবেচনা করে ধারা ১৪৮কে শুধুমাত্র হেটেরোসেক্সুয়াল দম্পতির জন্য সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সমলিঙ্গ দম্পতিরা এখন আর আইনগতভাবে অদৃশ্য নয় এবং তাদের সম্পত্তি, আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অধিকার রক্ষার জন্য এই রায় একটি মাইলফলক।

এই রায়ের ফলে ফিলিপাইনের এলজিবিটি সম্প্রদায়ের জন্য সম্পত্তি, আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত আইনি সুরক্ষা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্বে সমলিঙ্গ দম্পতি বিবাহের স্বীকৃতি না পেয়ে সম্পত্তি ভাগে সমস্যার সম্মুখীন হতেন, এখন তারা আদালতের মাধ্যমে সমান অধিকার দাবি করতে পারবে।

ফিলিপাইনের সমাজে ক্যাথলিক ধর্মের প্রভাব ও বিবাহের সংজ্ঞা এখনও রক্ষণশীল, এবং দেশে গৃহবিচ্ছেদের অনুমতি নেই। তবে এই রায়ের মাধ্যমে আদালত দেখিয়েছে যে, আইনগত কাঠামো আধুনিক সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। ভবিষ্যতে আইনসভা এই রায়কে ভিত্তি করে সমলিঙ্গ দম্পতির জন্য আরও বিস্তৃত অধিকার প্রদান করতে পারে।

পরবর্তী ধাপে, আইনপ্রণেতারা পরিবার কোডে স্পষ্টভাবে সমলিঙ্গ দম্পতির অধিকার সংযোজনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, অথবা অতিরিক্ত আদালতিক মামলার মাধ্যমে রায়ের পরিধি প্রসারিত হতে পারে। এই রায়ের প্রভাব রাজনৈতিক আলোচনায়ও প্রতিফলিত হবে, যেখানে রক্ষণশীল ও উদারপন্থী দলগুলোর মধ্যে সমলিঙ্গ অধিকার নিয়ে বিতর্ক তীব্র হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments