27 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি২০২৫ সিপিআইতে বাংলাদেশ ১৩তম স্থানে, স্কোরে সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ...

২০২৫ সিপিআইতে বাংলাদেশ ১৩তম স্থানে, স্কোরে সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ পিছিয়ে

ঢাকা, ধানমন্ডি – মঙ্গলবার সকালেই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তার সদর দফতরে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচক (সিপিআই) প্রকাশ করে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩তম স্থানে অবস্থান করেছে, স্কোর ২৪ পয়েন্টে স্থির হয়েছে, যা বৈশ্বিক গড় ৪২ পয়েন্টের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও গত বছরের তুলনায় এক পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশটি এক স্থান পিছিয়ে গেছে, কারণ ২০২৪ সালে র‍্যাঙ্ক ১৪তম ছিল। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেন, “জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থানের ইতিবাচক মূল্যায়ন স্কোরে এক পয়েন্ট বাড়ার প্রধান কারণ। তবে সংস্কার প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, মাঠ পর্যায়ে অব্যাহত দুর্নীতি এবং অন্যান্য কারণের ফলে সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতার উদাহরণ স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে একটি বড় সুযোগ হারিয়ে ফেলেছি।”

সিপিআইতে শীর্ষে দাঁড়িয়ে আছে ডেনমার্ক, যার স্কোর ৮৯ পয়েন্ট, এরপর ফিনল্যান্ড ৮৮ পয়েন্ট এবং সিঙ্গাপুর ৮৪ পয়েন্টে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অন্য প্রান্তে, দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া ৯ পয়েন্টে সমানভাবে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত, ভেনেজুয়েলা ১০ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানে, আর ইয়েমেন, লিবিয়া ও ইরিত্রিয়া ১৩ পয়েন্টে তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর ভাগাভাগি করেছে। বাংলাদেশের স্কোর ২৪ পয়েন্টের অর্থ হল দেশের দুর্নীতির ধারণা এখনও উচ্চমাত্রায় রয়েছে, যদিও সামান্য উন্নতি দেখা গেছে।

দুর্নীতি ধারণা সূচক ০ থেকে ১০০ পয়েন্টের স্কেলে গঠিত, যেখানে শূন্যের কাছাকাছি মান সর্বোচ্চ দুর্নীতি নির্দেশ করে এবং একশোর কাছাকাছি মান সর্বনিম্ন দুর্নীতি নির্দেশ করে। এই সূচকটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমীক্ষা, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের তথ্যের সমন্বয়ে তৈরি হয়, যা দেশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাত্রা মূল্যায়ন করে। টিআইবির মতে, বাংলাদেশের স্কোরের উন্নতি মূলত জনমত ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিবাচক প্রভাবের ফল, তবে কাঠামোগত সংস্কার ও আইনি ব্যবস্থার দুর্বলতা এখনও বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে যাওয়া দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে, যা ভবিষ্যতে দুর্নীতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। বিশেষ করে, নির্বাচনী চক্রের নিকটবর্তী সময়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে, এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও এই সূচকের দিকে নজর রাখবে। টিআইবির প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার যদি কার্যকর সংস্কার চালু করে এবং মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন করে, তবে স্কোর ও র‍্যাঙ্কিং উভয়ই উন্নত হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালের সিপিআইতে বাংলাদেশ ২৪ পয়েন্টে ১৩তম স্থানে রয়েছে, যা স্কোরে সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ পিছিয়ে যাওয়া নির্দেশ করে। এই ফলাফল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্নীতি মোকাবেলায় আরও দৃঢ় নীতি ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি যদি স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments