ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (EU EOM) ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে “খুবই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক” বলে প্রকাশ করেছে। চিফ অবজারভার ইভার্স ইজাবস ঢাকা শহরের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন। মিশনটি মোট ২০০-এর বেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ৯০ স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকও অন্তর্ভুক্ত, যা বাংলাদেশে ইউইউর সর্ববৃহৎ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইজাবস জানান, মিশনের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে প্রার্থী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছেন এবং সামগ্রিক পরিবেশকে ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বেশিরভাগ সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখতে চান।
মিশনের স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা ভোটদান প্রক্রিয়া এবং ভোট গণনা উভয়ই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে। ইজাবসের মতে, এই পর্যবেক্ষকরা ভোটের স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। মিশনের কাজের মূল নীতি হিসেবে তিনি অবজেক্টিভিটি, নিরপেক্ষতা এবং সম্মানকে উল্লেখ করেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাতজন সদস্যের একটি দলও মিশনে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকায় পৌঁছেছে। নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড এবং কানাডার পর্যবেক্ষকগণও মিশনের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা জানুয়ারির শুরুর দিকে থেকেই মাঠে কাজ করছেন এবং বর্তমানে কমপক্ষে ৬০ জন সক্রিয়ভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত।
মিশনের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন, তারা এখনো কোনো সহিংসতার ঘটনা শনাক্ত করেনি, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইজাবস interim রিপোর্ট প্রকাশের আগে এই বিষয়ে মন্তব্য না করার কথা জানান, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে। চূড়ান্ত রিপোর্টটি নির্বাচনের দুই মাস পর প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে ইজাবস উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন, মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই বিষয়টি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুল তথ্যের বিস্তার অনেক দেশের গণতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে এবং তা মোকাবিলার জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রশ্নে তিনি কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং জানান, মিশনের দল এই ধরনের কেন্দ্রগুলোকে বিশেষভাবে নজরে রাখবে। তবে বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই বৃহৎ পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির স্বীকৃতি বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। মিশনের শেষ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ ফলাফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।



