নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নের আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় উল্লেখযোগ্য সতর্কতা জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন, তাদের প্রকৃত হিসাব ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরই নেওয়া হবে।
ফারুকের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিক্রয়মূলক রাজনীতিকে দমন করা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কিছু বহিষ্কৃত নেতা এবং জামাতের একটি অংশ ধানের শীষের বদলে স্বাধীন প্রার্থীর “কাপ‑পিরিচ” প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা তিনি রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে এখন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনে দাঁড়ানো এই নেতারা, ফারুকের মতে, এক সময় দলীয় নীতি মেনে চলা ও সমর্থন করা উচিত ছিল। তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, তারা ক্ষমা চেয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করে, বরং স্বাধীন প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে এসেছে।
ফারুকের মতে, যারা হৃদয়ে ধানের শীষের আদর্শ বহন করেন, তবু ভোটের সময় অন্য প্রতীকে সমর্থন দেন, তাদের এই কাজের জন্য সৃষ্টিকর্তা কখনোই ক্ষমা করবেন না। তিনি দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানান, কোনো প্রলোভনের সামনে নতি স্বীকার না করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোটের প্রার্থীকে জয়ী করতে কাজ করতে।
জনসভার সময় ফারুকের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠে। তিনি জানান, তার গাড়ি এবং দলের কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় সেনবাগের কোনো সাধারণ মানুষ জড়িত নয়, বরং কুমিল্লার লাকসাম ও ফেনীর দাগনভূঞা থেকে ২২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হামলার খবর পেয়ে হাজার হাজার দলীয় কর্মী রাজপথে নেমে এলে, ফারুক শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেও কর্মীদের রক্ষার শপথ নিয়েছেন এবং সন্ত্রাসের বদলে ভোটের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চান।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ফারুক আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক ২৮০টি আসনে জয়লাভ করবে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন।
শেষে ফারুক বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি অটুট বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়তে দলীয় ঐক্য ও নীতি মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।



