গতকাল লাঙ্গল মার্কায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ভোটের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৮ কোটি নাগরিকের মধ্যে বিদ্বেষ ও বিভাজন বাড়িয়ে তুলেছে বর্তমান শাসন, যা দেশের মৌলিক ন্যায় ও সমতার নীতিকে ক্ষুন্ন করেছে।
কাদেরের মতে, আজকের বাংলাদেশে চরম বৈষম্য ও দখলদারিত্বের একটি অমানবিক রূপ গড়ে উঠেছে, যেখানে ধর্মীয় স্থানে হিংসা ও ভয় দেখানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতি ‘মৃত্যুপুরী’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান, বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের বাড়ি ও দোকান লুটপাট, ধ্বংস ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে, অথচ সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
একই সময়ে, কাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে উল্লেখ করেন, কিছু লোকের ঘরে ঘরে ধ্বংসযজ্ঞের ঘোষণা দিয়ে বাড়ি ভাঙা ও জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তবু কোনো শাস্তি বা বাধা দেখা যাচ্ছে না। তিনি এটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের পূর্বলক্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করে, দেশের শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকে তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বেকারত্বের হার বাড়ছে এবং ব্যাংকের রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থা অজানা। এছাড়া, সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, সীমান্তের কিছু অংশ অন্য দেশের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
নারী অধিকার সংক্রান্ত his remarks also highlighted that women are now treated as outsiders in their own country, with cultural ও শিল্পকর্মের স্বর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষার ও কর্মক্ষেত্রের সুযোগ সীমাবদ্ধ হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাউল, শিল্পী ও ভিন্নমতধারী ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ বাড়ছে, যা সমাজের সমতা ও স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
লাঙ্গল মার্কায় তার বক্তৃতার পর কাদের ফেসবুকে লিখে বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে নারীর পোশাকের জন্য হেনস্থা না হয়, শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে নিরাপদ সম্পর্ক থাকে এবং সকলের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়। তিনি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভোটের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।
কাদেরের বক্তব্যে তিনি বর্তমান নির্বাচনের দুইটি প্রধান বিকল্পের কথা উল্লেখ করেন। একদিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের ভিত্তিতে গড়া দল, অন্যদিকে সেই আদর্শের বিরোধী শক্তি। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টি সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে এবং ‘লাঙ্গল’ প্রতীককে ভোট দিলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুনরুদ্ধার হবে।
বক্তৃতার সময় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা জাতীয় টিভিতে তাদের মতামত প্রকাশ করলেও লাঙ্গল মার্কায় উপস্থিত ছিলেন না। এই অনুপস্থিতি কাদেরের সমালোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং তার ভোট আহ্বানকে রাজনৈতিক মঞ্চে আলাদা করে তুলেছে।
অবশেষে, কাদের জুলাই ২০২২-এ অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের দাবি তুলে ধরেন, যা তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও এই দাবির সত্যতা যাচাই করা হয়নি, তবু তিনি এটিকে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছেন।
জাতীয় পার্টির এই ভোট আহ্বান এবং দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কাদেরের বিশ্লেষণ দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের ফলাফল এবং কাদেরের দাবির বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



