ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পদে থেকে গর্ডি হাও ইন্টারন্যাশনাল সেতুর উদ্বোধন বন্ধ করার ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সরকারকে কানাডিয়ান সরকারের কাছ থেকে সব ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণভাবে পাওয়া না পর্যন্ত সেতু চালু করা যাবে না।
গর্ডি হাও ইন্টারন্যাশনাল সেতু ডেট্রয়েট নদীর ওপর অবস্থিত, যা কানাডার অন্টারিও প্রদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যকে সংযুক্ত করে। সেতুটি ডেট্রয়েট ও উইন্টারসের মধ্যে গাড়ি চলাচলের নতুন রুট হিসেবে পরিকল্পিত এবং আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার পর ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ট্রাফিকের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা।
প্রকল্পের অফিসিয়াল সাইটে উল্লেখ আছে যে, সেতুর নির্মাণের মূলধন সম্পূর্ণভাবে কানাডিয়ান সরকার থেকে আসে, তবে মালিকানা উভয় দেশ ও মিশিগান রাজ্যের যৌথভাবে থাকবে। সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ দায়িত্বে থাকবে উইন্টারস‑ডেট্রয়েট ব্রিজ অথরিটি, যা সম্পূর্ণভাবে কানাডিয়ান সরকারের অধীনে কাজ করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে সেতুর অর্ধেক অংশের মালিকানা নিশ্চিত করা উচিত এবং তিনি উল্লেখ করেন যে কানাডিয়ান সরকার সেতুর উভয় পাশে নিজেদের দখল করে রেখেছে। তিনি যুক্তি দেন, কানাডিয়ান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে এমনভাবে ব্যবহার করতে চায় যা ন্যায়সঙ্গত নয়।
সেতুর উদ্বোধন কীভাবে বাধা দেওয়া সম্ভব তা স্পষ্ট না হলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প তৎক্ষণাৎ আলোচনার সূচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের উল্লেখ না করেও ভবিষ্যতে কীভাবে বাধা আরোপ করা হবে তা নিয়ে অনুমান ছেড়ে গেছেন।
গর্ডি হাও সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয় এবং দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে। সেতুর মোট খরচ কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (CBC) অনুসারে প্রায় ৬.৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার, যা প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ডের সমান।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতিতে তিনি বলেন, মার্কিন সরকারকে “ন্যায়সঙ্গত ও সম্মানজনক” আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং কানাডিয়ান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত সেতু খোলার অনুমতি দেবেন না।
সেতুর উন্নয়নকারী সংস্থা, উইন্টারস‑ডেট্রয়েট ব্রিজ অথরিটি, সম্পূর্ণভাবে কানাডিয়ান সরকারের মালিকানাধীন। এই তথ্য প্রকল্পের ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে এবং সেতুর মালিকানা কাঠামো সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র‑কানাডা সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। পূর্বে, মোরুন পরিবার, যারা ডেট্রয়েট‑কানাডা সংযোগকারী অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের মালিক, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নতুন সেতুর নির্মাণ বন্ধ করার জন্য আবেদন করেছিল। তারা যুক্তি দিয়েছিল, নতুন সেতু তাদের টোল সংগ্রহের একচেটিয়া অধিকার লঙ্ঘন করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান হুমকি উভয় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কানাডিয়ান সরকার সেতুর সম্পূর্ণ অর্থায়ন ও মালিকানা রক্ষা করার দাবি বজায় রেখেছে, আর মার্কিন সরকারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দিলে সেতু চালু না করার সম্ভাবনা উভয় দেশের বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে কী ধরনের সমঝোতা হবে তা নির্ভর করবে দু’দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপর।



