27 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধময়মনসিংহের ত্রিশালে চালের ব্যবসায়ীকে শাটার বন্ধ করে কুপিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহের ত্রিশালে চালের ব্যবসায়ীকে শাটার বন্ধ করে কুপিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বগার বাজার চৌরাস্তা এলাকায় রাত ১১টায় এক চালের ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং শাটার বন্ধ করে রেখে যায়। ঘটনাটি স্থানীয় পুলিশ ত্রিশাল থানা ওসিরা মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেনের জানামতে নিশ্চিত হয়েছে।

মৃতদেহের মালিক সুসেন চন্দ্র সরকার, ৬২ বছর বয়সী, মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাউথকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বগার বাজারে তার ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিচিত ছিলেন।

হত্যাকারীরা শাটার বন্ধ করে রেখে গিয়ে দেহটি দোকানের ভেতরে ফেলে দেয়। শাটার বন্ধ থাকায় দেহটি তৎক্ষণাৎ দৃশ্যমান হয়নি, ফলে প্রথমে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা দেরি না করে দোকানে প্রবেশ করে শাটার খুলে দেহটি রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। দেহটি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক দেহ পরীক্ষা করার পর মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি এবং রক্তক্ষরণের পরিমাণ থেকে স্পষ্ট হয় যে শিকারের সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

সুসেনের ছেলে সুজন সরকার জানান, তাদের চালের ব্যবসা বহু বছর ধরে চলছে এবং কোনো শত্রুতা কখনো ছিল না। তিনি বলেন, হত্যার পর দুকান থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে গিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে গেছে।

সুজন সরকার দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের নির্মম কাজের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উদাহরণস্বরূপ শাস্তি দেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।

ত্রিশাল থানা ওসি ফিরোজ হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। শিকারের দেহের অবস্থান, শাটার বন্ধ থাকা এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

পুলিশের মতে, অপরাধের সময় কোনো গাড়ি বা সাইকেল দেখা যায়নি, ফলে সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আশেপাশের ক্যামেরা রেকর্ড এবং সাক্ষীদের বিবৃতি থেকে সম্ভাব্য সূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মৃতদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল থেকে হত্যার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং অস্ত্রের ধরন নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ ইতিমধ্যে সকল প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। অপরাধের তদন্ত চলাকালীন প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান, গ্রেফতার ও আদালতে দাখিলের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতে মামলার শুনানি নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণকে জানানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শিকারের পরিবারকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণই ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধের মূল চাবিকাঠি হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments