জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর বিশাল সংখ্যক শ্রমিক গ্রামে ফেরার পথে গাজীপুরের ঢাকা‑টাঙ্গাইল ও ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়েছে। চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় সকালবেলা থেকেই বাস, ট্রাক, প্রাইভেট গাড়ি সহ নানা ধরণের যানবাহন দীর্ঘ সারিতে আটকে রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে, ফলে গৃহমুখী যাত্রীরা বড় অসুবিধার মুখে।
গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় রফিকুল ইসলাম, ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী পোশাকশ্রমিক, জানান, “কারখানা থেকে ছুটি পেয়ে ভোট দেওয়ার জন্য রওনা হয়েছি, তবে চন্দ্রা এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময় যানজটে আটকে আছি। কখন বাড়ি পৌঁছাব, জানি না।” একই সময়ে কোনাবাড়ি থেকে বাসে করে রাজশাহী যাওয়ার পথে গৃহকর্মী হাসিনা বেগম বলেন, “ভোট দেওয়ার জন্যই এত কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছি, কিন্তু ছোট বাচ্চা নিয়ে এই যানজটে ভয়ংকর কষ্ট হচ্ছে।”
হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, দীর্ঘ ছুটির সময়ে সাধারণত শত শত পুলিশ সদস্য মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করেন, তবে এইবার নির্বাচনের দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় পুলিশ সংখ্যা কমে গেছে। ফলে চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন থেমে থেমে চলাচল করছে, এবং স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে গতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের প্রতিনিধি জানান, ঢাকা‑টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে। বহুজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করলেও বাস না পেয়ে ট্রাকে চেপে গন্তব্যে যাচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগে দেখা গেছে, কিছু বাস চালক ও সুপারভাইজার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, যা যাত্রীদের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বাড়াচ্ছে।
মির্জাপুরে মৌসুমে সর্ষে ও ধানের আবাদ করতে উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা আসেন। তারা উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে কাজ করে, এবং নির্বাচনের আগের দিন থেকে বাড়ি ফেরার জন্য রওনা হয়েছে। এই গৃহযাত্রা স্থানীয় রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়িয়ে তুলেছে, ফলে ট্রাফিকের গতি হ্রাস পেয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন বৃহস্পতিবার নির্ধারিত, এবং ভোট দিতে আগ্রহী ভোটাররা গত সোমবার বিকেল থেকে বাড়ির পথে রওনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের রাস্তায় গতি ধীর হয়েছে, যা ভোটারদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নিতে বাধ্য করছে।
যাত্রী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটের দিন গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে গৃহমুখী শ্রমিক ও গৃহকর্মীদের জন্য নিরাপদ ও দ্রুত গমন নিশ্চিত করা এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।



