গত বৃহস্পতিবার বরিশাল শহরের সদর রোডে রিকশাওয়ালা আবদুল মান্নান ভোটের কৌশল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, এবার প্রচলিত ‘দখল’ পদ্ধতি কাজ করবে না; ভোটারদের হৃদয় জেতোর জন্য সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তিনি নিজে মনীষা চক্রবর্ত্তীর পক্ষে ভোট দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তার সমর্থনে অটোরিকশা চালিয়ে দু’জনের জন্য খাবার সরবরাহের প্রস্তাব দেন।
মনীষা চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর প্রার্থী, বরিশাল‑৫ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০১৮ সালে রিকশা‑ভ্যান ও তিন চাকার যান চলাচলের বৈধতার দাবিতে তিনি রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে বড়ো জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার প্রচারাভিযান এখন রিকশাওয়ালা আবদুল মান্নানের সমর্থন পেয়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিএনপি থেকে মো. মজিবর রহমান সরোয়ারও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মজিবর, স্থানীয় স্তরে তার রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রেখেছেন। তার উপস্থিতি নির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীমও প্রার্থী তালিকায় আছেন। ফয়জুল করীমের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনে প্রার্থিতা থেকে সরে গিয়েছে। তার দলীয় অবস্থান ও ভোটার ভিত্তি এই আসনে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।
বরিশাল সার্কিট হাউসের সামনে উপস্থিত এক যুবক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের ফলাফল সমানভাবে নির্ধারিত হবে এবং কোনো প্রার্থীকে হালকা করে দেখা যাবে না। তার মন্তব্যে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে সমতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়েছে।
গত পাঁচ দিন ধরে বরিশাল জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন প্রার্থী। ভোটাররা প্রার্থীদের কাজ, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, সমর্থনকারী গোষ্ঠী এবং হুমকি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সক্রিয়ভাবে মতামত প্রকাশ করছেন।
এই সময়ে এ বি পার্টির ফুয়াদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই অভিযোগকে অস্বীকার করে চলেছে।
বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে একই রকম প্রচারাভিযান চলছে, যেখানে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।
একই সঙ্গে ৩০ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায়ও সমান ধরনের ভোটাভুটি চালু হয়েছে। সেখানে স্থানীয় প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে তাদের চাহিদা ও সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করছেন।
প্রতিটি প্রার্থীই ভোটারদের কাছে নিজের প্রোগ্রাম ও অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরছেন। মনীষা চক্রবর্ত্তী তার পূর্বের রিকশা-ভ্যান আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে পরিবহন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মজিবর রহমান সরোয়ার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলেছেন। ফয়জুল করীম ধর্মীয় ও সামাজিক সেবা প্রদানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
এই নির্বাচনী পর্বে ভোটারদের প্রত্যাশা স্পষ্ট: স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং বাস্তবিক উন্নয়ন। প্রার্থীরা এই চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলই নির্ধারণ করবে কে এই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করবে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে অংশ নেবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীও নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে তদারকি করবে।



