বিনোদন জগতে পরিচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহার সম্প্রতি তার ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের একটি কঠিন মুহূর্তের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, ১৯৯৫ সালের রোমান্টিক ড্রামা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ শুটিংয়ের সময় সরোজ খানার সঙ্গে তার মুখোমুখি হওয়া পরিস্থিতি তাকে ভয়ঙ্কর ও মানসিকভাবে চাপযুক্ত করে তুলেছিল।
করণ জোহারের চলচ্চিত্র জগতের প্রথম পদক্ষেপ ছিল ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’তে পোশাক সহকারী হিসেবে কাজ করা। তিনি তখন আদিত্য চোপড়া এবং ফ্যাশন ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রার অধীনে কাজ করছিলেন। পোশাক বিভাগের দায়িত্বে থাকা মণীশ মালহোত্রা প্রতিদিন সকালে পোশাক সরবরাহ করে যেতেন, আর পামেলা চোপড়া, যাকে তিনি ‘পাম আন্টি’ বলে উল্লেখ করেন, পোশাকের কাজের সব দিকেই সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
শুটিং চলাকালে ‘মেহন্দি লাগা কে রাখনা’ গানের দৃশ্যের জন্য নৃত্যশিল্পীদের অতিরিক্ত লাল স্কার্ফের প্রয়োজন হয়। সরোজ খানার নির্দেশে স্কার্ফের সংখ্যা বাড়াতে বলা হয়, তবে সেটে যথেষ্ট কাপড়ের স্টক না থাকায় জোহার বিকল্প সমাধান প্রস্তাব করেন। তিনি সরোজের সহকারীকে জানান, নর্তকীরা এক হাতে পকেটে স্কার্ফ রাখলে দৃশ্যটি স্টাইলিশ দেখাবে।
প্রস্তাবটি সরোজ খানার কাছে পৌঁছালে তিনি তা গ্রহণ করেন না। তিনি তৎক্ষণাৎ লাল সাটিন কাপড়ের দাবি করেন এবং না পেলে শুটিং বন্ধ করার হুমকি দেন। জোহার জানান, সরোজ তখন ‘লস’ হয়ে গিয়ে তৎক্ষণাৎ লাল সাটিনের কাপড় চাইছিলেন।
পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে যখন সরোজ খানার হাত জোহারকে ধরিয়ে দেন এবং তাকে তাড়া করেন। তিনি জোরে বলেন, “গোরেগাঁয়ে গিয়ে লাল কাপড় আনো, না হলে শুটিং হবে না।” জোহারকে তৎক্ষণাৎ গোরেগাঁয়ের রাস্তায় দৌড়াতে হয়, যেখানে তিনি এবং পোশাকের দায়িত্বে থাকা সহকারী একসাথে লাল সাটিনের টুকরা খুঁজতে শুরু করেন।
গোরেগাঁয়ের ব্যস্ত রাস্তায় দৌড়ানোর সময় জোহার জানান, তিনি নিজের জীবন নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন এবং পুরো ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে ‘ট্রমাটাইজড’ বলে বর্ণনা করেছেন, কারণ সরোজের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং শারীরিক চাপ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
এই ভয়ংকর মুহূর্তের পরেও জোহার সরোজ খানার নৃত্যশৈলীর প্রশংসা করেন। তিনি স্বীকার করেন, সরোজের কাজের মান ও শিল্পের প্রতি তার নিষ্ঠা অদ্বিতীয় এবং ভারতীয় সিনেমায় তার অবদান অপরিসীম। যদিও সরোজের সঙ্গে তার সম্পর্ক কঠিন ছিল, তবু তিনি তার দক্ষতাকে ‘সেরা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরোজ খানার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি বহু হিট গানের নৃত্য পরিচালনা করেছেন এবং শিল্পে তার নাম ভয় এবং সম্মানের সমন্বয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জোহার উল্লেখ করেন, সরোজের কঠোর স্বভাবের পেছনে তার নিখুঁত কাজের মান ছিল, যা তাকে শিল্পের অন্যতম শীর্ষ নৃত্যশিল্পী করে তুলেছিল।
করণ জোহারের এই স্মৃতিচারণা তার ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে। তিনি বলেন, এমন কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি শিখেছেন কীভাবে চাপের মধ্যে কাজ চালিয়ে যেতে হয় এবং কীভাবে শিল্পের বিশাল ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হয়।
এই অভিজ্ঞতা জোহারকে পরবর্তীতে নিজের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করেছে এবং তার ভবিষ্যৎ প্রযোজনা ও পরিচালনায় দৃঢ়তা যোগ করেছে। তিনি এখন চলচ্চিত্র জগতে সফল পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে স্বীকৃত, তবে তার শুরুর দিনগুলোর এই স্মৃতি তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, করণ জোহার ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ শুটিংয়ের সময় সরোজ খানার সঙ্গে যে তীব্র সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যদিও তিনি সেই সময়কে ‘ট্রমাটাইজড’ বলে বর্ণনা করেছেন, তবু তিনি সরোজের শিল্পকুশলতা ও অবদানের প্রতি সম্মান বজায় রেখেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বিনোদন শিল্পের পেছনে থাকা কঠিন কাজের পরিবেশ এবং বড় নামের সঙ্গে কাজ করার সময় যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখা দেয়, সেগুলো কখনোই সহজ নয়।



