ইজরায়েলি সরকারের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা রোববার পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকে সহজ করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ওপর আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার এক সিরিজ পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশীয় মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অনুমোদিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে কয়েক দশকের পুরনো বিধি বাতিল, যা পূর্বে ইহুদি নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিম তীরের জমি ক্রয় থেকে বাধা দেয়া ছিল। এখন থেকে এই নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নতুন ক্রেতাদের জন্য জমি কেনা সহজ হবে বলে বলা হয়েছে।
এছাড়া, ইজরায়েলি সরকারকে কিছু ধর্মীয় স্থানের পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অধীনে থাকা প্রশাসনিক এলাকায় তদারকি ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত। এসব ব্যবস্থা পশ্চিম তীরের অধিকাংশ অংশে ইতিমধ্যে ইজরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকা এলাকায় প্রয়োগ হবে।
পশ্চিম তীরের কিছু অংশে এখনও পিএর সীমিত স্বশাসন বজায় রয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ভূখণ্ড দাবি করে। তবে নতুন অনুমোদনগুলোকে তারা তাদের স্বায়ত্তশাসনের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নতুন পদক্ষেপগুলোকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অবৈধ” বলে অভিহিত করে, এবং এটিকে পশ্চিম তীরের আনুষ্ঠানিক দখল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পূর্বে পশ্চিম তীরে আনেক্সেশন পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেও, ইজরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে কোনো বাধা আরোপ করেনি। তাই আব্বাসের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান পদক্ষেপগুলো পূর্বের নীতি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তের প্রকাশের তিন দিন আগে ওয়াশিংটনে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং তিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
নেতানিয়াহুর জোটে বহু ইহুদি বসতি সমর্থক রয়েছে, যারা পশ্চিম তীরকে ইজরায়েলি ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে সংহত করতে চান। এই সমর্থকগণ নতুন বিধি বাতিল ও তদারকি ক্ষমতা বৃদ্ধিকে তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ফিলিস্তিনিরা দাবি করে যে, অব্যাহত বসতি নির্মাণ তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা ক্ষয় করে। তারা যুক্তি দেয় যে, জমি দখল ও আইনগত নিয়ন্ত্রণের বিস্তার তাদের ভূখণ্ডের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে।
ইজরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা উল্লেখ করেছে যে, নতুন ব্যবস্থা ইজরায়েলি নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তারা যুক্তি দেয় যে, নিয়মিত আইন প্রয়োগের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সংঘাতের ঝুঁকি কমবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নতুন পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করছেন। কিছু দেশ ইজরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে কিছু দেশ ইজরায়েলি নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্বীকার করেছে।
ভবিষ্যতে, ইজরায়েলি সরকার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার সুযোগ বাড়তে পারে, তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে তা কঠিন হতে পারে। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সরকার এই পদক্ষেপগুলোকে ভোটারদের কাছে নিরাপত্তা ও ভূমি সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে, যা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।



