একটি সরকারি পরামর্শ কমিটি শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে এবং মৌলিক জ্ঞান ঘাটতি দূর করতে মাধ্যমিক স্তরের পাবলিক পরীক্ষা পাঁচটি মূল বিষয়েই সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ করেছে। এই প্রস্তাবের ভিত্তি হল ক্লাস ১২ পর্যন্ত সর্বজনীন মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, যা শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
কমিটি, যার নাম ‘ইমপ্রুভমেন্ট অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন কনসালটেশন কমিটি’, অক্টোবর ২০২২-এ গঠিত হয় এবং দশজন সদস্য নিয়ে গঠিত। এর নেতৃত্বে ছিলেন এমেরিটাস প্রফেসর মানজুর আহমেদ, যিনি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রাখেন।
প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় পাবলিক পরীক্ষায় শুধুমাত্র বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান এই পাঁচটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যান্য বিষয়গুলোকে এখনো স্কুলের অভ্যন্তরে চলমান মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।
কমিটি যুক্তি দিয়েছে যে, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীরা একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছেন, ফলে মৌলিক ভাষা ও গণিতের দক্ষতা গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। তাই পরীক্ষার পরিধি সংকুচিত করে মূল দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া উচিত।
ডিজিটাল টেকনোলজি, ধর্মশিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা এবং শিল্পকলা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে কেন্দ্রীয় লিখিত পরীক্ষার বাইরে রাখা হবে। এসব বিষয়ের মূল্যায়ন ধারাবাহিক মূল্যায়ন, প্রকল্প কাজ এবং শিক্ষকের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে করা হবে, যা শিক্ষার্থীর বাস্তবিক সক্ষমতা প্রকাশে সহায়ক হবে।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একাধিক বিষয়ের একসাথে পরীক্ষা দেওয়া থেকে মুক্তি পেলে, ভাষা ও গণিতের মৌলিক ধারণা শক্তিশালী করার জন্য বেশি সময় ও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষার সময়সূচি স্কুলের নিয়মিত পাঠক্রমে বাধা সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করে। পরীক্ষার সময়কাল কমিয়ে শিক্ষার ক্ষতি রোধ করা এবং শিক্ষকের কাজের সময় সুনিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার বদলে ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা তত্ত্বের পাশাপাশি বাস্তবিক দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।
কমিটি ক্লাস ৫ এবং ক্লাস ৮-এ অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া গত বছর পুনঃপ্রবর্তিত জুনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষা অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করে তা বাতিলের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের পরীক্ষার ফলে সাধারণ ক্লাসে পাঠদান ব্যাহত হয়; শিক্ষকরা সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেন, যখন বাকি শিক্ষার্থীরা যথাযথ দিকনির্দেশনা পায় না। ধারাবাহিক মূল্যায়ন এই সমস্যার সমাধান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
অধিকন্তু, কমিটি ক্লাস ১০ পর্যন্ত একক পাঠ্যক্রম বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে শিক্ষার মান ও সামঞ্জস্য নিশ্চিত হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত ও সমান শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষা নীতি পরিবর্তনের এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নিজে ভাবুন। যদি আপনার সন্তান বা পরিচিত কেউ এই পরিবর্তনের ফলে উপকৃত হতে পারে, তবে স্কুলের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন।



