বহুল প্রত্যাশিত অ্যাকশন থ্রিলার ‘ডন ৩’ থেকে রানভীর সিংের প্রস্থান পর এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট ৪০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে। উভয় পক্ষের মধ্যে আর্থিক বিরোধের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রি-প্রোডাকশনের সময় করা ব্যয় এবং চুক্তি ভঙ্গের দায়িত্ব।
ডন ৩ প্রকল্পটি ফারহান আহতার এবং রিতেশ সিধওয়ানির এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে তৈরি হচ্ছিল, যেখানে রানভীর সিংকে প্রধান চরিত্রে নিয়োগের কথা ছিল। চলচ্চিত্রটি উচ্চ বাজেটের সঙ্গে বড় স্ক্রিনে প্রকাশের লক্ষ্যে পরিকল্পিত ছিল, ফলে প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের মতে, শুটিং শিডিউল, লোকেশন পরিকল্পনা এবং কর্মী নিয়োগসহ প্রাথমিক কাজগুলোতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে, যা রানভীর সিংয়ের সম্মতি ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছিল। এই ব্যয়ের পরিমাণকে তারা ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি হিসেবে গণনা করে, যা অভিনেতার ত্যাগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করে।
রানভীর সিং এই দাবিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, স্ক্রিপ্টে সন্তোষজনক পরিবর্তন না হওয়ায় তিনি প্রকল্প থেকে সরে গেছেন এবং শেষ খসড়া তার প্রত্যাশা পূরণ করেনি। তাই তিনি প্রি-প্রোডাকশনের ব্যয়ের জন্য আর্থিক দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করছেন।
এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রি-প্রোডাকশন কাজগুলো রানভীর সিংয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাই তিনি যদি চূড়ান্ত স্ক্রিপ্টে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তবে তা তার নিজের সিদ্ধান্তের ফলাফল হিসেবে গণ্য করা উচিত, এই যুক্তি তারা তুলে ধরেছে।
বিবাদের ফলে বেশ কয়েকজন বিভাগ প্রধানকে কাজ থেকে বাদ দিতে হয় এবং তারা নতুন প্রকল্পের সন্ধান নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই পরিস্থিতি চলচ্চিত্রের উৎপাদন সময়সূচি ও কর্মীসংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলেছে, যা এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের আর্থিক ক্ষতির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার দুই ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা মতবিরোধ সমাধানের চেষ্টা করেন, তবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জিত হয়নি। আলোচনার সময় উভয় দিকই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন, ফলে আলোচনা শেষ হয় কোনো সমাধান ছাড়াই।
বিবাদটি তীব্র হওয়ায় প্রযোজক গিল্ড অফ ইন্ডিয়া (PGI) মধ্যস্থতার জন্য হস্তক্ষেপ করেছে। PGI উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে বিষয়টি আরও বাড়তে না পারে এবং চলচ্চিত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যাঘাত না ঘটে।
এ পর্যন্ত রানভীর সিং ও এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট উভয়ই কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেননি। বিবাদটি চলমান অবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সমাধান হবে তা এখনও অনিশ্চিত। একই সময়ে রানভীর সিং তার অন্যান্য চলচ্চিত্র প্রকল্পে ব্যস্ত থাকায় এই বিষয়টি তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলবে তা শিল্পের নজরে রয়েছে।



