24 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো কাউন্টি প্রধানের বিদেশি নারী আমদানি প্রস্তাবের ফলে গণতান্ত্রিক দল...

দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো কাউন্টি প্রধানের বিদেশি নারী আমদানি প্রস্তাবের ফলে গণতান্ত্রিক দল থেকে বহিষ্কার

দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো কাউন্টির প্রধান কিম হি-সু গত সপ্তাহে এক বৈঠকে দেশের জন্মহার বাড়াতে ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী নারী আমদানি করার প্রস্তাব দেন। এই মন্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়ে এবং রাজনৈতিক পরিণতি বয়ে আনে।

কিম হি-সু উল্লেখ করেন, গ্রামীণ অঞ্চলের অবিবাহিত যুবকদের জন্য বিদেশি নারীদের সঙ্গে বিবাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যা জন্মসংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হবে। তিনি এই ধারণা একাধিকবার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী জনসংখ্যা সংকটের সমাধান হতে পারে।

প্রস্তাবের প্রকাশের পর নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানায়, মন্তব্যগুলোকে নারীর মর্যাদা হ্রাসকারী এবং নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপনকারী হিসেবে সমালোচনা করে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অনেকেই এই ধরনের নীতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করে।

গণতান্ত্রিক দল দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কিম হি-সুকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করে। দলটি প্রকাশ্যে জানায়, তার মন্তব্যগুলো পার্টির নীতি ও নৈতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তৎক্ষণাৎ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারযুক্ত দেশ, যেখানে প্রতি মহিলার গড় সন্তান সংখ্যা ১.০৬। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ষাট বছরে দেশের মোট জনসংখ্যা অর্ধেকের কাছাকাছি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভিয়েতনামের সিয়োল দূতাবাস কিমের প্রস্তাবকে কঠোরভাবে নিন্দা করে এবং এ ধরনের মন্তব্যকে অনৈতিক বলে উল্লেখ করে। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নারীকে কোনো দেশের জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক নীতির বিরোধী।

শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই বিষয়টি নিয়ে শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ আলোচনার সম্ভাবনা উল্লেখ করছেন।

বিতর্কের পর কিম হি-সু জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং স্বীকার করেন যে তার ভাষা অনুপযুক্ত ছিল। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য ছিল জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান খোঁজা, তবে প্রকাশের পদ্ধতি ভুল হয়েছে।

এই ঘটনার ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে জন্মহারের সমস্যার সমাধানে আরও কঠোর ও মানবিক নীতি প্রণয়নের দাবি তীব্রতর হয়েছে। সরকারকে এখন জনমত ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে কার্যকরী পরিবার নীতি গড়ে তোলার জন্য চাপ বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে জনসংখ্যা নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক হবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এই সংবেদনশীল বিষয়টি কীভাবে পরিচালনা করবে তা নিয়ে নজর থাকবে। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোও সরকারকে মানবাধিকার সম্মান করে সমাধান খুঁজতে আহ্বান জানাবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments