24 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভাঙ্গা উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে হুমকি ও অস্ত্রধারী...

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভাঙ্গা উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে হুমকি ও অস্ত্রধারী হানা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় রাত ২ টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের সমর্থকের ঘরে গোষ্ঠী প্রবেশ করে হুমকি ও হানা দেয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাতের অর্ধরাতের পর আড়াইটার দিকে কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে অবস্থিত আব্দুস সামাদ মাতুব্বরের বাড়িতে ২:১৮ টায় একটি প্রাইভেট কার এবং দুটি মাইক্রোবাসে করে আট থেকে দশজন পুরুষ প্রবেশ করে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গোষ্ঠীটি দরজার কাছে থামা অবস্থায় দুইজনের কাঁধে স্বল্পদূরী গুলির (শর্টগান) দৃশ্যমান হয় এবং তারা থানা থেকে এসেছেন বলে দাবি করে দরজা খুলতে বলছে। গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রায় দশ মিনিট ধরে ঘরে ঘুরে বেড়ায়, তারপর ২:২৮ টায় গ্রাম ত্যাগ করে।

বাবুল (সামাদ মাতুব্বরের ছেলে) জানান, তিনি মুজাহিদ বেগের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে তার নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, তবে বিএনপি কর্মীদের ধারাবাহিক হুমকির মুখে পড়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত রাতেও তিনটি গাড়িতে করে বেশ কিছু লোক তার বাড়িতে এসে “ফুটবল প্রতীকের সঙ্গে থাকলে গুলি করে মেরে ফেলব” বলে হুমকি দিয়েছে। এই হুমকি তাকে ও তার পরিবারকে আতঙ্কিত করেছে।

বাবুলের মতে, একই রাতে দু’দিন আগে তার বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো থানা থেকে আসা পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। থানা ওসি আব্দুল আলিম বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো ডিবি পুলিশ পাঠানো হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও দাখিল হয়নি।

একই সপ্তাহের সোমবার বিকালে চরভদ্রাসন উপজেলার দুইটি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের উপর হেনস্তার অভিযোগ উঠে। মাকসুদা বেগম নামে এক সমর্থক অভিযোগে জানান, মুজাহিদ বেগের কর্মীরা লিফলেট বিতরণকালে স্থানীয় কৃষকদল নেতা কামরুল হাসান ফিরোজের নেতৃত্বে হেনস্তা করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হেনস্তা করা হয়েছে চরভদ্রাসন উপজেলার মৌলভীরচর বেলতলা এলাকায়, যেখানে প্রচারণা চলাকালে নারী কর্মীরা শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়। হেনস্তার সময় তাদের গলা চেপে ধরা, চিৎকার করা এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হেনস্তা ঘটার সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় চরভদ্রাসন উপজেলার সদর দফতরের স্বাধীনতা চত্বরের সামনে অবস্থিত ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের অংশে ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা ক্যামেরা এই ঘটনাটিও রেকর্ড করেছে।

এই দুইটি ঘটনার ওপর নির্বাচন ও বিচারিক কমিটি অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কমিটি উল্লেখ করেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গৃহহানা ও হেনস্তার অভিযোগের ফলে উভয়ই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণা দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্কের টান বাড়তে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার বা আইনি পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে উভয় ঘটনার সিসি ক্যামেরা রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে তদন্ত চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ঘটনা নির্বাচনী সময়কালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ ও দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি বাড়বে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments