ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) জানুয়ারির শেষের দিকে একটি নতুন আদাহার অ্যাপ এবং অফলাইন যাচাইকরণ কাঠামো চালু করার ঘোষণা দেয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল দেশের বৃহত্তম ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা দৈনন্দিন জীবনে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করা। নতুন সিস্টেমটি ব্যবহারকারীর সম্মতি ভিত্তিক এবং তথ্যের সীমিত ভাগাভাগি নিশ্চিত করে।
নতুন আদাহার অ্যাপটি ব্যবহারকারীকে পূর্ণ জন্মতারিখ প্রকাশ না করে বয়সের সীমা নিশ্চিত করার সুযোগ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সেবা প্রদানকারীকে শুধুমাত্র ব্যবহারকারী ১৮ বছরের বেশি কিনা তা জানানো যায়। এছাড়া অ্যাপটি QR কোডের মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার সুবিধা দেয়, যা ডিজিটাল ভিজিটিং কার্ডের মতো কাজ করে।
অফলাইন যাচাইকরণ ফিচারটি কেন্দ্রীয় আদাহার ডেটাবেসের সঙ্গে রিয়েল‑টাইম সংযোগ ছাড়াই পরিচয় প্রমাণ করতে সক্ষম করে। ব্যবহারকারী তার ডিভাইসে সংরক্ষিত এনক্রিপ্টেড তথ্য ব্যবহার করে সেবা গ্রহণ করতে পারে, ফলে ডেটা লিকের ঝুঁকি কমে। এই পদ্ধতি বিশেষ করে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত এলাকায় কার্যকর বলে বিবেচিত।
মোবাইল পেমেন্টের ক্ষেত্রে UIDAI নতুন অ্যাপকে গুগল ওয়ালেটের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। গুগল (গুগল) এর পাশাপাশি স্যামসাং ওয়ালেটেও ইতিমধ্যে সমর্থন রয়েছে, এবং অ্যাপল ওয়ালেট (অ্যাপল) এ সমন্বয়ের জন্য আলোচনাও চলছে। এই একীকরণ ব্যবহারকারীর পেমেন্ট অভিজ্ঞতা সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ বিভাগেও নতুন অ্যাপের ব্যবহার শুরু হয়েছে। আহমেদাবাদ সিটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ প্রথম পুলিশ ইউনিট হিসেবে আদাহার‑ভিত্তিক অফলাইন যাচাইকরণকে PATHIK নামের অতিথি পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে। এই সিস্টেমটি হোটেল ও অন্যান্য অতিথি বাসস্থানে প্রবেশকারী ব্যক্তির তথ্য রেকর্ড করতে সহায়তা করে।
হোটেল, হাউজিং সোসাইটি, কর্মস্থল এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন নতুন অ্যাপের মাধ্যমে সীমিত পরিচয় তথ্য শেয়ার করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, হোটেল রিসেপশনিস্টরা অতিথির বয়স নিশ্চিত করতে পারে, পূর্ণ পরিচয়পত্র না দেখিয়ে। এভাবে কাগজের ফটোকপি এবং ম্যানুয়াল চেকের প্রয়োজন কমে যাবে।
UIDAI কর্তৃপক্ষের মতে, এই পরিবর্তনগুলো ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে এবং পরিচয় তথ্যের অপ্রয়োজনীয় প্রকাশ রোধ করবে। নতুন অ্যাপের চালু হওয়ার সময় মাই‑আদাহার (mAadhaar) অ্যাপটি এখনও সমান্তরালভাবে কাজ করবে, ফলে ব্যবহারকারীরা পুরোনো ও নতুন উভয় অ্যাপই ব্যবহার করতে পারবে।
অফলাইন যাচাইকরণ কাঠামোটি এনক্রিপ্টেড QR কোড ব্যবহার করে, যা ব্যবহারকারী ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে এবং সেবা প্রদানকারীকে স্ক্যান করার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা যায়। এই পদ্ধতি ডেটা ট্রান্সমিশনকে সীমিত করে, ফলে নিরাপত্তা বাড়ে।
নতুন অ্যাপের লঞ্চের সময় দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে UIDAI কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ফটো কপি এবং হাতে লেখা আইডি চেকের পরিবর্তে সম্মতিপ্রাপ্ত, অফলাইন ভিত্তিক যাচাইকরণই ভবিষ্যতের দিক। তারা বলেন, ব্যবহারকারী এখন নিজের তথ্যের কোন অংশ শেয়ার করবেন তা স্বয়ং সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
সমালোচকরা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকলেও, সরকার এই উদ্যোগকে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। নতুন অ্যাপের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিচয় সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে UIDAI আরও বেশ কিছু সেবা ও প্ল্যাটফর্মে এই অ্যাপের সংযোজনের পরিকল্পনা করছে। মোবাইল ওয়ালেট, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট টিকিটিং এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে আদাহার সিস্টেমের ব্যবহারিক পরিসর ক্রমশ বিস্তৃত হবে।
সারসংক্ষেপে, নতুন আদাহার অ্যাপ এবং অফলাইন যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর তথ্যের স্বায়ত্তশাসন বাড়িয়ে, বিভিন্ন সেক্টরে কাগজের কাজ কমিয়ে, ডিজিটাল পরিচয়ের ব্যবহারকে সহজতর করবে। যদিও গোপনীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্ন রয়ে গেছে, তবে এই পদক্ষেপটি ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।



