ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন বাকি, ভোটের মাঠে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্র, তবে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। নিরাপত্তা সংস্থা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।
দেশের সব নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও দলীয় প্রার্থীর প্রচার শীর্ষে, সমর্থকরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রভাব বিস্তারে সক্রিয়। এই তীব্রতা বিরোধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে যখন অস্ত্রের ব্যবহার অনুমান করা হয়। ফলে সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়ছে।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত সতেরো মাসে থানা থেকে চুরি হওয়া ১,৩৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও পুনরুদ্ধার হয়নি। এই সংখ্যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য।
একই সময়ে ২,৫৭,১৪৪টি গুলি এবং ১,৭৫৪টি কার্তুজও উদ্ধার করা যায়নি, যার বেশিরভাগই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছেছে বলে অনুমান। এই অস্ত্র ও গুলির ব্যবহার সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে স্পষ্ট। নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।
জুলাই ২০২৩-এ গণ-আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে মোট ৫,৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের ৩২টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে।
লুট হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগই পরবর্তীতে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে ১,৩৩১টি এখনও অজানা। অবশিষ্ট অস্ত্রের গন্তব্য সনাক্তকরণ কঠিন, যা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহার হতে পারে। তাই দ্রুত অনুসন্ধান ও পুনরুদ্ধার জরুরি।
রাজধানীর পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করার পর থেকে “অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ‑২” চালু হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের লক্ষ্য অবৈধ অস্ত্রের ধ্বংস ও অপরাধী গ্রেপ্তার। নিরাপত্তা বাহিনী এই মিশনে তীব্রতা বজায় রেখেছে।
অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২৫টি বিভিন্ন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র, ২৫,৪১৯টি রাউন্ড গুলি, ১,৭৫৪টি কার্তুজ, ৪৩৯টি ককটেল এবং ৮২টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি ধরা সামগ্রী অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুনরুদ্ধারকৃত সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
তদুপরি, অভিযানের সময় ২৫,৭০২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দমন করা লক্ষ্য।
গত শুক্রবার, ঢাকা মহানগরের বাড্ডা এলাকায় একটি বাড়ি থেকে ১১টি আধুনিক বিদেশি অস্ত্র এবং ৩৯৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী মেহেদি হাসান দিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ধরা সামগ্রী দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক।
বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, মেহেদির বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে প্রাপ্ত অস্ত্রের উৎস তদন্ত চলছে। তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রাখা হয়েছে, যা তদন্তের সময়সীমা বাড়াবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে।
হাসপাতাল ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ার ফলে সাম্প্রতিক মাসে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গুলিবিদ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সুবিধার ওপর চাপ বাড়ছে। এই প্রবণতা নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বর্তমান বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ফলে ঘটিত হত্যার সংখ্যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। এই বৃদ্ধি নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে। নিরাপত্তা সংস্থা এই সময়কালে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে নির্বাচনী স্থানে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত। তবে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ রোধে তৎ



