ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আজ মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায়, অফিস শেষের পরই বহু কর্মচারী রাজধানী ত্যাগ করে গ্রাম ও গৃহে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এই ছুটির ধারাবাহিকতা এবং নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ভোটদানের উদ্দেশ্য একসঙ্গে মিলিয়ে, বাস‑ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী প্রবাহ দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবারের অফিস শেষের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা শহরের কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী ও সাভার এলাকার বাস স্ট্যান্ডে দীর্ঘ লাইন গড়ে ওঠে। গাড়ি না থাকায় যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয় এবং কিছু বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। একই সময়ে, ঢাকা‑আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীদের চাপ বাড়ছে।
কমলাপুর ও যাত্রাবাড়ীর বাস স্ট্যান্ডে গোপালগঞ্জের ইসমাইল হোসেন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর বললেন, “এখানে যাত্রীর অভাব নেই, তবে গাড়ি না থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে এবং ভাড়া একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে।” তার মতই, নড়াইলের ইমন আলীও একই রকম সমস্যার মুখোমুখি হয়ে জানান, “আবদুল্লাহপুর থেকে বাস না পাওয়ায় এখানে আসছি, কিন্তু এখনও বাস পাচ্ছি না, বাড়ি ফিরতে কী হবে তা নিয়ে চিন্তিত।”
যাত্রাবাড়ী এলাকার শ্যামলী বাসের কাউন্টার কর্মী মিজান এই অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না, তবে যাত্রীদের সংখ্যা বেশি, জ্যাম থাকায় বাসের সময়সূচি কিছুটা দেরি হচ্ছে।” তিনি অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সেবা মানে সাময়িক পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও একই রকম পরিস্থিতি দেখা যায়। ট্রেনের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক যাত্রী ছাদে উঠে বসে যাত্রা চালিয়ে যায়। ট্রেনের দেরি ও অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, নবীনগর, সাভার বাসস্ট্যান্ড; নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ ও বাইপাইল; এবং আব্দুল্লাহপুর‑বাইপাইল সড়কের আশুলিয়া, জামগড়া ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া ও পার্শ্ববর্তী ধামরাইয়ে পোশাক কারখানার কর্মচারীরা ছুটির পর বাড়ি ফেরার জন্য একসাথে বেরিয়ে আসার ফলে ভিড় বাড়ছে।
গাইবান্ধা যাওয়ার পথে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করা নাসিমা বেগম জানান, “ইলেকশনের উদ্দেশ্যেই যাচ্ছি, তবে ভিড়ের কারণে বাচ্চারা রাতে অস্বস্তিকর অবস্থায় আছে, ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।” তার কথায় যাত্রীর নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত না হওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ পায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পথে বাসের অপেক্ষা করা হাসান আলী বলেন, “টিভিতে নিরাপদে যাত্রা করার কথা বলা হয়, তবে এখানে নিরাপত্তা কোথায়? পুলিশও নেই, কেউই দেখাচ্ছে না।” তিনি যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভ্রমণ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
যাত্রীরা উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ ছুটির পর লম্বা বিরতির সুযোগ পেয়ে তারা পরিবারিক সময় কাটাতে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে গ্রামাঞ্চলে যাচ্ছেন। এই বৃহৎ যাত্রা নির্বাচনের সময় ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার অতিরিক্ত চাপ ও ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বড় পরিসরের এই যাত্রা, বিশেষ করে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায়, ঢাকা শহরের ট্রাফিক ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। সরকারী ও বেসরকারি পরিবহন সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে এখন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করা যায় এবং নির্বাচনের সময়সূচি মসৃণভাবে চলতে পারে।
এই পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে যাত্রীদের অভিযোগ এবং ভিড়ের মাত্রা দেখিয়ে দেয় যে, নির্বাচনের সময়ে পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।



