মিডলসব্রো শেফিল্ড ইউনাইটেডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে প্রথমার্ধে দু’টি গোলের মাধ্যমে ২-১ জয় অর্জন করে লিগের শীর্ষে উঠে আসে। টমি কনওয়ে এবং রাইলি ম্যাকগ্রি প্রথম ৪৫ মিনিটে স্কোর বদলে দিলেন, ফলে মিডলসব্রো কোভেন্ট্রি থেকে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে দাঁড়াল। এ জয়টি দলটির ধারাবাহিক ষষ্ঠ জয় এবং শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হল।
প্রথমার্ধে শেফিল্ড ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার গাস হ্যামার এক দিকের কৌণিক শট মারতে চেষ্টা করলেও গোলকিপার সল ব্রিনের চমৎকার ডিফেন্সে থেমে গেল। মিডলসব্রোর হেডেন হ্যাকনি দ্রুত ড্রিবল করে বাম পাশে কনওয়ের কাছে পাস দিল, তবে কনওয়ে শটটি পোস্টের বাইরে গিয়ে শেষ হল। একই সময়ে আদিলসন মালান্ডা হেডার মারতে গিয়ে মাইকেল কুপারের হাতে আটকে গেল, আর মরগান হুইটাকারও হেডার দিয়ে শট দিলেন, যা কুপার সহজে রক্ষা করলেন।
১৯তম মিনিটে মিডলসব্রোর আক্রমণ তীব্রতা পায়। লুক এয়লিং, হুইটাকার এবং রাইলি ম্যাকগ্রি সমন্বয় করে কনওয়ের সামনে সুযোগ তৈরি করে। কনওয়ে শটটি সঠিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছে, যা মিডলসব্রোর প্রথম গোল হয়ে দাঁড়ায়। হ্যাকনি পরবর্তীতে এক চমৎকার শট মারতে চাইলেন, তবে তা কুপারের ডান পোস্টের ঠিক পাশে গিয়ে শেষ হল।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে মিডলসব্রোর আরেকটি সুযোগ আসে। হ্যাকনি আবারই ড্রিবল করে ডান পোস্টের দিকে শট মারলেন, কিন্তু শটটি পোস্টে আঘাত করে ফিরে গিয়ে রাইলি ম্যাকগ্রি দ্রুত হেডে গন্তব্যে পৌঁছায়। তার হেডারটি নেটের পিছনে গিয়ে মিডলসব্রোর দ্বিতীয় গোল নিশ্চিত করে, ফলে অর্ধেকের শেষে স্কোর ২-০ হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে শেফিল্ড ইউনাইটেড দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়। প্যাট্রিক বামফোর্ড মাঝখানে বল নিয়ে গিয়ে হ্যামারের পাসে সুনিপুণ শট মারেন, তবে শটটি লক্ষ্য থেকে সামান্য বিচ্যুত হয়ে যায়। মাঝখানে গেমের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিডলসব্রোর গলকিপার সল ব্রিন এবং কুপার দুজনই গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি বামফোর্ডের শটের পর শেফিল্ড ইউনাইটেডের একমাত্র গোল আসে। বামফোর্ডের শটটি নেটের মধ্যে ঢুকে স্কোরকে ২-১ করে তুলল, যা গেমকে আবারও সমান করে দিল। তবে এই সময়ে মিডলসব্রোর ডেবিউয়ান জো রথওয়েল ১০ মিনিট বাকি থাকাকালীন লাল কার্ড পেয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হন, যা শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
রথওয়েলের বহিষ্কারের পর শেফিল্ড ইউনাইটেডের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা ব্যাহত হয়, এবং তারা সমান স্কোরের সন্ধানে ব্যর্থ থাকে। শেষের দিকে মিডলসব্রোর রক্ষকরা দৃঢ়ভাবে প্রতিরক্ষা বজায় রাখে, ফলে শেফিল্ড ইউনাইটেডের সমান করার কোনো সুযোগ তৈরি হয় না। ম্যাচের শেষ সিগন্যাল পর্যন্ত স্কোর ২-১ থেকেই থাকে, এবং মিডলসব্রো বিজয়ী হিসেবে মাঠ ছাড়ে।
এই জয়ের ফলে মিডলসব্রো চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে উঠে, কোভেন্ট্রি থেকে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে প্রথম স্থান নিশ্চিত করে। দলটি এখন পর্যন্ত ছয়টি ধারাবাহিক জয় অর্জন করেছে এবং পরবর্তী রাউন্ডে শীর্ষস্থান বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।



