লস এঞ্জেলেসের বেভারলি হিলস হোটেলে ১৬ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অ্যাডভান্সড ইমেজিং সোসাইটি (এআইএস) ২০২৬ লুমিয়ের পুরস্কার সমারোহে শিল্প, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের সৃজনশীল ব্যক্তিত্বদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ বছরের অনুষ্ঠানটি ১৬তম বার অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং চলচ্চিত্রের গল্প বলার পদ্ধতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে উদযাপন করেছে। পুরস্কারগুলো বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে বিতরণ করা হয়েছে, যেখানে ‘সিনার্স’, ‘জুটোপিয়া ২’, ‘উইকেড: ফর গুড’ এবং ‘দ্য কিং অব কালার’ প্রধান বিজয়ী হিসেবে নাম প্রকাশ পেয়েছে।
সমারোহে উপস্থিত ছিলেন শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, এবং পুরস্কার প্রদানকারী হিসেবে বর্ণময় ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ দেখা যায়। লুমিয়ের পুরস্কারগুলোকে শিল্পের সীমানা প্রসারিতকারী উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বছর বিশেষভাবে লাইভ-অ্যাকশন, অ্যানিমেশন, সঙ্গীতময় চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারি ক্যাটেগরিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।
‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক সেভ ওহানিয়ানকে সর্বোত্তম লাইভ-অ্যাকশন ফিচার ফিল্মের পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারটি তার কাজের গভীরতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের জন্য স্বীকৃত হয়েছে। এই মুহূর্তে পুরস্কারটি উপস্থাপন করেন অস্কার প্রার্থী দেলরয় লিন্ডো, যিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‘সিনার্স’ ছবির সাউন্ড টিম, যার সদস্য ছিলেন ক্রিস ওয়েল্কার, স্টিভ বেডডেকার এবং বেনি বার্ট, তাদের থিয়েটারিয়াল ফিল্মের সেরা অডিও পুরস্কার পায়। সাউন্ড ডিজাইন ও মিক্সিংয়ে তাদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই স্বীকৃতি চলচ্চিত্রের শোনার অভিজ্ঞতাকে নতুন মাত্রা দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে তুলে ধরে।
অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্মের ক্যাটেগরিতে ‘জুটোপিয়া ২’ সর্বোচ্চ সম্মান পায়। পরিচালক বায়রন হাওয়ার্ডকে পুরস্কারটি উপস্থাপন করেন অভিনেতা প্যাট্রিক ওয়ারবারটন। ‘জুটোপিয়া ২’ তার চমৎকার অ্যানিমেশন প্রযুক্তি ও সামাজিক বার্তার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই পুরস্কারটি অ্যানিমেশন শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপনের ইঙ্গিত দেয়।
‘উইকেড: ফর গুড’ চলচ্চিত্রের পরিচালক জোন এম. চুকে সেরা মিউজিক্যাল মুভি পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই চলচ্চিত্রটি সঙ্গীত ও নাটকের সমন্বয়ে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে, যা বিচারকমণ্ডলীর দৃষ্টিতে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। মিউজিক্যাল ফরম্যাটে গল্প বলার নতুন পদ্ধতি এই পুরস্কার দিয়ে স্বীকৃত হয়েছে।
ডকুমেন্টারি ক্যাটেগরিতে ‘দ্য কিং অব কালার’ চলচ্চিত্রকে সেরা ডকুমেন্টারি পুরস্কার দেওয়া হয়। এই চলচ্চিত্রের লেখক ও পরিচালক প্যাট্রিক ক্রেডনকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। রঙের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে তৈরি এই কাজটি তথ্যবহুল ও দৃষ্টিনন্দন হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
বিশেষ সম্মান হিসেবে ইথান হককে ২০২৬ ডিস্টিংগুইশড আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। তিনি রিচার্ড লিঙ্কলেটারের ‘ব্লু মুন’ চলচ্চিত্রে লরেঞ্জ হার্টের ভূমিকায় অভিনয় করে এই সম্মান অর্জন করেন। হকের অভিনয়কে মানবিক অনুভূতি ও গভীরতা প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে লুকাসফিল্মের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ক্যাথলিন কেনেডি হকের কাজের প্রশংসা করে মন্তব্য করেন। তিনি হকের শিল্পী হিসেবে মানবিকতা, অনুভূতি ও বোঝাপড়া বাড়ানোর ক্ষমতাকে তুলে ধরেন এবং তাকে আলোর উৎস হিসেবে বর্ণনা করেন। এই উক্তি শিল্পের সামাজিক দায়িত্বের ওপর আলোকপাত করে।
লুমিয়ের পুরস্কার সমারোহটি চলচ্চিত্র শিল্পে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়কে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। এআইএসের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাবনী কাজকে উৎসাহিত করবে এবং গল্প বলার নতুন পথ খুলে দেবে। শিল্পের বিভিন্ন শাখা থেকে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য এই অনুষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে রয়ে যাবে।



