চেলসির নতুন হেড কোচ লিয়াম রোজেনিয়র সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, অনলাইন মন্তব্য ও বিদ্রূপ তার পরিবারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তিনি বলছেন, কোচিং দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা ও তিরস্কার আশা করা স্বাভাবিক, এবং দেশের অনেক মানুষ তাকে নিয়ে হাসছে। রোজেনিয়র এই মন্তব্যটি টিমের লিডসের বিপক্ষে বাড়ি গেমের আগে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরিবারিক দিক থেকে এই চাপের প্রভাব তুলে ধরেছেন।
রোজেনিয়র জানান, তার কিশোর সন্তানরা সামাজিক মিডিয়ায় তার প্রতি আক্রমণের শিকার হচ্ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। তার বাবা-মা ও অন্যান্য পরিবারিক সদস্যদের ওপরও এই অনলাইন মন্তব্যের প্রভাব পড়ছে, যা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তবু তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের চাপের মুখে হাসি দিয়ে মোকাবিলা করা তার কাজের অংশ, এবং তিনি এই পরিস্থিতি স্বীকার করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কোচের মতে, যদি কেউ এই ধরনের নেতিবাচক মন্তব্যে মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়, তবে এই পেশা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, মানসিক দৃঢ়তা ছাড়া এই উচ্চ-প্রোফাইল কাজটি করা সম্ভব নয়। রোজেনিয়র নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি এই চাপে হাল ছাড়বেন না এবং কাজের প্রতি তার উত্সাহ অপরিবর্তিত থাকবে।
কোচিং ফলাফল নিয়ে রোজেনিয়র গর্ব প্রকাশ করেছেন; তিনি চেলসিকে মাত্র নয়টি ম্যাচে সাতটি জয় এনে দিয়েছেন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। এই সাফল্য সত্ত্বেও, মিডিয়া তাকে “LinkedIn Liam” এবং “ডেভিড ব্রেন্ট” হিসেবে তুলনা করে ব্যঙ্গের শিকার করেছে। বিশেষ করে, আরসেনালের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে বল নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি করার পর তার ওপর অতিরিক্ত মন্তব্যের স্রোত বয়ে গিয়েছে।
রোজেনিয়র স্বীকার করেন, আরসেনালের সঙ্গে তার প্রথম স্পর্শে ত্রুটি হয়েছে, তবে তিনি এটিকে কাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, এমন ছোটখাটো ভুলগুলো কোচের ক্যারিয়ারে অনিবার্য এবং সেগুলোকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। রোজেনিয়র উল্লেখ করেন, তিনি কাজটি উপভোগ করছেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফলই মূল বিচার হবে, ব্যক্তিগত মন্তব্য নয়।
কোচের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তার পটভূমি ও কোচিং অভিজ্ঞতা, এবং চেলসির মতো বড় ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে অতিরিক্ত নজর ও সমালোচনা এসেছে। তিনি বলেন, তিনি বড় নাম না হওয়ায় মিডিয়ার দৃষ্টি বেশি পেয়েছেন, যা তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। তবু তিনি এই চ্যালেঞ্জকে নিজের উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন এবং দলের পারফরম্যান্সে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখছেন।
রোজেনিয়র ভবিষ্যতে দলের মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত মন্তব্যের বদলে ফলাফলই মূল বিচার হবে, এবং তিনি তার খেলোয়াড়দের এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে উৎসাহিত করছেন। কোচের মতে, দলের জয় ও ধারাবাহিকতা তার কাজের সেরা স্বীকৃতি হবে।
আসন্ন ম্যাচে চেলসি লিডসের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে রোজেনিয়র তার দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে চান। তিনি দলের প্রস্তুতি ও মনোভাবের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই গেমটি তার কোচিং দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রোজেনিয়র আশা প্রকাশ করেছেন, পরিবারিক চাপ সত্ত্বেও তিনি মাঠে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন এবং ফলাফল দিয়ে সমালোচকদের উত্তর দেবেন।
সারসংক্ষেপে, লিয়াম রোজেনিয়র অনলাইন বিদ্রূপের প্রভাব স্বীকার করে পরিবারিক দিক থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে তিনি কাজের প্রতি তার উত্সাহ ও আত্মবিশ্বাস বজায় রেখেছেন। তার কোচিং রেকর্ড ইতিমধ্যে চেলসির জন্য ইতিবাচক ফলাফল দেখাচ্ছে, এবং তিনি ভবিষ্যতে ফলাফলের ভিত্তিতে নিজের মূল্যায়ন করতে চান। এই পরিস্থিতি ক্রীড়া জগতে উচ্চ-প্রোফাইল কোচদের মুখোমুখি হওয়া সামাজিক চ্যালেঞ্জের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়।



