চেলসি নারী ফুটবলের প্রধান পল গ্রিন অপ্রত্যাশিতভাবে ক্লাব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তার পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নারী দলের ভবিষ্যৎ গঠনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গ্রিন ২০১৩ সালে ডনকাস্টার রোভার্স বেলস থেকে চেলসিতে যোগ দেন, যেখানে তিনি এমা হেইসের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখন থেকে তিনি ও হেইসের কাজের ঘনিষ্ঠতা দলকে একত্রে গড়ে তোলার মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।
দুটি বছর ধরে তারা একই অফিস শেয়ার করে, কৌশলগত পরিকল্পনা ও রিক্রুটমেন্টে একসাথে কাজ করেন। গ্রিন ক্লাবের ট্রান্সফার নীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, ফলে চেলসির নারী দল প্রায় তিন‑চারটি ট্রান্সফার উইন্ডো আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে পারত।
২০২৩ সালে হেইস একবার প্রকাশ করেন, তিনি গ্রিনকে বললে “চাঁদে পৌঁছাতে চাই”, গ্রিন উত্তর দেন যে রকেট এখনো তৈরি হয়নি। এই কথোপকথনটি তাদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
হেইসের জরুরি হিস্টেরেক্টমির সময় গ্রিন ও সহকারী ডেনিস রেডি ছয়টি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেন। এই সময়ে দলটি স্থিতিশীল পারফরম্যান্স বজায় রাখে, যা গ্রিনের নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণ করে।
গ্রিনের দায়িত্বকালে চেলসির নারী দল মোট ১৯টি ট্রফি জিতেছে, যার মধ্যে আটটি লিগ শিরোপা এবং ছয়টি FA কাপ অন্তর্ভুক্ত। এই সাফল্যগুলো ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
সাম কের সামাজিক মাধ্যমে গ্রিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, “তোমার সব সহায়তার জন্য ধন্যবাদ, তোমার না থাকলে এই সাফল্য সম্ভব হতো না” বলে পোস্ট করেন। এরিন কুথবের্টও একইভাবে তার ক্যারিয়ারে গ্রিনের প্রভাবকে উল্লেখ করে প্রশংসা করেন।
হেইসের ইউএস নারী জাতীয় দলের হেড কোচ পদে পরিবর্তনের পর গ্রিনের প্রস্থান চেলসির নারী ফুটবলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মূল স্তম্ভের ক্ষতি নির্দেশ করে। তার অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল।
গার্ডিয়ান সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হয়ে এসেছে। সহ-স্পোর্টিং ডিরেক্টর লরেন্স স্টুয়ার্ট এবং পল উইনস্টানলি নারী দলের বিষয়গুলোতে বেশি সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করছেন। এই পরিবর্তনটি গ্রিনের প্রস্থানের পেছনের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রিনের পদত্যাগের কয়েক দিন পর চেলসি নারী দল একটি নতুন দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ঘোষণা করে। নতুন চুক্তি দলের ভবিষ্যৎ গঠন ও বিনিয়োগের দিক নির্দেশ করে, তবে গ্রিনের অভাব কীভাবে পূরণ হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চেলসির নারী ফুটবলের পরবর্তী লক্ষ্য হল বিদ্যমান সাফল্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানো। নতুন নেতৃত্বের অধীনে দল কীভাবে কৌশল পুনর্গঠন করবে এবং ট্রান্সফার নীতি কীভাবে চালু হবে, তা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।



