গোর ভেরবিন্সকি, ২০১৭ সালের পর প্রথম চলচ্চিত্র, “গুড লাক, হ্যাভ ফান, ডোন্ট ডাই” শিরোনামের সাই‑ফাই কমেডি শর্ট, ১৩ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ভবিষ্যৎ থেকে আগত এক ব্যক্তি মানবজাতিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি থেকে রক্ষা করার প্রস্তাব দেয়। ভেরবিন্সকি এই কাজের মাধ্যমে দশ বছরের বেশি সময়ের পর বড় পর্দায় ফিরে আসছেন।
ভেরবিন্সকি পূর্বে “পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান” সিরিজের পরিচালক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন এবং ২০১১ সালের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র “র্যাঙ্গো”‑তে পরিচালক‑প্রযোজক হিসেবে অস্কার জিতেছেন। ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মনস্তাত্ত্বিক হরর “এ কিউর ফর ওয়েলনেস” তার শেষ দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প ছিল। তার পরের বছরগুলোতে তিনি অ্যানিমেশন ও সাই‑ফাই মিশ্রণযুক্ত একটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করেন।
সেই প্রকল্পটি ছিল রঙিন স্পেস ক্যাটের সঙ্গে একটি সঙ্গীতময় বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, যা বহু বছর ধরে বিকাশের পথে ছিল। ২০২২ সালে আর্থিক ও সৃজনশীল বাধার কারণে প্রকল্পটি স্থগিত হয়, ফলে ভেরবিন্সকি মেথিউ রবারসনের লিখিত স্ক্রিপ্টে মনোনিবেশ করেন। স্ক্রিপ্টের শিরোনাম “গুড লাক, হ্যাভ ফান, ডোন্ট ডাই”।
চলচ্চিত্রের ধরণে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, অ্যাকশন‑অ্যাডভেঞ্চার এবং কমেডি মিশ্রিত, যা বিনিয়োগকারী ও স্টুডিওদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। প্রধান স্টুডিওগুলো একাধিকবার প্রত্যাখ্যানের পর, স্বাধীন তহবিলের তিনটি রাউন্ডে ব্যর্থতা ঘটায়। শেষ পর্যন্ত ব্রিয়ারক্লিফ এন্টারটেইনমেন্ট এবং কনস্ট্যান্টিন ফিল্ম প্রকল্পকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
প্রধান চরিত্রে স্যাম রকওয়েল “দ্য ম্যান ফ্রম দ্য ফিউচার” ভূমিকায় অভিনয় করেন। তিনি লস এঞ্জেলেসের একটি রেস্টুরেন্টে উপস্থিত গ্রাহকদের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলার প্রস্তাব দেন। চলচ্চিত্রের কাহিনী সংক্ষিপ্ত হলেও, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে টানাপোড়েনকে তুলে ধরে।
ভেরবিন্সকি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আধুনিক সমাজে উত্থিত কয়েকটি সংবেদনশীল বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি মোবাইল ফোনের হিপনোসিস, গুলিবিদ্ধ ঘটনার প্রতি অমায়িকতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা মানবিকতা হ্রাসের প্রবণতাকে সমালোচনা করেন। বিশেষ করে AI‑এর অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে তার উদ্বেগ স্পষ্ট।
তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি গান রচনা বা গল্প বলার মতো সৃজনশীল কাজের সহায়তা করে, তবে তা মানবের মৌলিক সৃজনশীলতা ক্ষুণ্ন করতে পারে। ভেরবিন্সকির মতে, AI‑কে ক্যান্সার নিরাময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করা উচিত, বিনোদনমূলক কাজের জন্য নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি চলচ্চিত্রের থিমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
চলচ্চিত্রের শুটিং লস এঞ্জেলেসে সম্পন্ন হয় এবং পোস্ট‑প্রোডাকশন প্রক্রিয়ায় ভেরবিন্সকি নিজেই ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও সাউন্ড ডিজাইনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অ্যানিমেশন ও লাইভ‑অ্যাকশন সংমিশ্রণ তাকে পুনরায় তার স্বতন্ত্র শৈলীর প্রকাশের সুযোগ দেয়। ফলস্বরূপ, দর্শকরা ভিজ্যুয়ালি সমৃদ্ধ এবং বৌদ্ধিকভাবে উদ্দীপক একটি অভিজ্ঞতা পাবেন।
“গুড লাক, হ্যাভ ফান, ডোন্ট ডাই” চলচ্চিত্রটি ১৩ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভেরবিন্সকির কাজকে বৈশ্বিক পর্যায়ে পুনরায় আলোচনায় আনবে। চলচ্চিত্রের রিলিজের পর প্রথম সপ্তাহে টিকিট বিক্রয় প্রত্যাশিতভাবে ভাল ফলাফল দেখাচ্ছে।
ভেরবিন্সকির এই নতুন প্রকল্পটি তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দশ বছরের বেশি সময়ের বিরতির পর, তিনি আবার বড় পর্দায় নিজের স্বর শোনাতে সক্ষম হয়েছেন। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও শৈলীর বৈচিত্র্য ভবিষ্যতে তার আরও সৃজনশীল কাজের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
দর্শকদের জন্য এই চলচ্চিত্রটি কেবল বিনোদন নয়, প্রযুক্তি ও নৈতিকতার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে চিন্তা করার সুযোগও প্রদান করে। AI‑এর দ্রুত অগ্রগতি এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে, ভেরবিন্সকির বার্তা সময়োপযোগী এবং প্রাসঙ্গিক। তাই, চলচ্চিত্রটি দেখার পর দর্শকরা প্রযুক্তি ব্যবহারের দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ পেতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, “গুড লাক, হ্যাভ ফান, ডোন্ট ডাই” একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী সাই‑ফাই কমেডি, যা ভেরবিন্সকির স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক উদ্বেগকে একত্রিত করে। তার পুনরায় পর্দায় ফিরে আসা চলচ্চিত্রটি শিল্পের ভক্ত ও সাধারণ দর্শকদের উভয়েরই মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে আশা করা যায়। চলচ্চিত্রের থিয়েটারিকাল রিলিজের পর স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা



