18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাষ্ট্রপতি তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি

রাষ্ট্রপতি তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি

রাষ্ট্রপতি ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯‑এ জরুরি পরিবর্তন আনেন। গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত এই অধ্যাদেশের শিরোনাম ও প্রকাশের তারিখ একই দিনে প্রকাশিত হয়, যা দেশের তথ্য স্বচ্ছতা নীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।

গেজেটটি আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। গেজেটের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে জাতীয় সংসদ ভেঙে থাকায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংবিধানের ধারা ৯৩(১) অনুসারে, রাষ্ট্রপতি এই জরুরি পরিস্থিতিতে অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করার ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। এই ধারা পার্লামেন্টের অস্থায়ী অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুমতি দেয়।

অধ্যাদেশের মূল পরিবর্তন হল তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯‑এর ধারা ২‑এর দফা (চ)‑এর সংশোধন। সংশোধনের মাধ্যমে “তথ্য” শব্দের সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন ধরণের নথি ও ডেটা অন্তর্ভুক্ত হয়।

নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত স্মারক, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য‑উপাত্ত, লগবই, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনা, পত্র, প্রতিবেদন, হিসাব‑বিবরণী ও প্রকল্প প্রস্তাব—allকে “তথ্য” হিসেবে গণ্য করা হবে। এই বিস্তৃত সংজ্ঞা তথ্যের অধিকারকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

গেজেটের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সংশোধিত অধ্যাদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে। তাই এই পরিবর্তনগুলো অবিলম্বে প্রয়োগে আসবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

অধিকারের এই বিস্তৃতি তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখে। সরকার উল্লেখ করেছে যে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।

বিপক্ষের কিছু প্রতিনিধি এই পদক্ষেপকে তথ্যের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সময়ে নাগরিকের অধিকার রক্ষার জন্য ইতিবাচক বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে অন্যদিকে, কিছু আইন বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দল অতিরিক্ত ক্ষমতার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, যা সংবিধানিক সীমারেখা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে এই সংশোধন কীভাবে প্রয়োগ হবে এবং এর ফলে তথ্যের অনুরোধ প্রক্রিয়ায় কী পরিবর্তন আসবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংসদ পুনর্গঠন হলে, সংশোধিত বিধান নিয়ে আলোচনা ও সম্ভাব্য সংশোধনের সুযোগ থাকতে পারে। এছাড়া, নতুন সংজ্ঞা ভিত্তিক তথ্যের অনুরোধে আদালতের রায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সারসংক্ষেপে, রাষ্ট্রপতির জারি করা তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ তথ্যের সংজ্ঞা বিস্তৃত করে তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং নাগরিকের অধিকারকে শক্তিশালী করতে লক্ষ্য রাখে। এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন ও পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার দিক নির্ধারণ করবে দেশের তথ্য স্বচ্ছতা নীতির ভবিষ্যৎ দিক।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments