18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই-যোদ্ধাদের নিয়োগ দাবি, সিন্ডিকেট সভা ঘিরে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই-যোদ্ধাদের নিয়োগ দাবি, সিন্ডিকেট সভা ঘিরে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৬তম সিন্ডিকেট সভা সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে, জুলাই-যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত একটি গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগের দাবি তুলে ধরেছে। এই দাবি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত হওয়ায় ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

দাবিটি “জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি” নামের সংগঠন থেকে এসেছে, যার সদস্যরা ১৯৭১ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদেরকে “জুলাই-যোদ্ধা” বলে চিহ্নিত করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে এই ব্যক্তিদের নিয়োগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।

সকাল থেকে সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়। তারা দিনের শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের প্রাঙ্গণে অবস্থান করে, যা পূর্বে না দেখা একটি দৃশ্য। তাদের উপস্থিতি শিক্ষকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশে অস্বাভাবিক উত্তেজনা তৈরি করে।

সিন্ডিকেটের ৫৪৬তম সভা সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি কয়েক দিন আগে থেকেই আলোচনার বিষয় ছিল। সভা শেষ হওয়ার পর, সংগঠনের সদস্যরা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার লক্ষ্যে উপাচার্যের অফিসে যাওয়ার পরিকল্পনা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক জানান, নির্বাচনের পর বর্তমান প্রশাসনের বেশিরভাগই পদত্যাগ করতে পারেন, তাই এই সিন্ডিকেট সভা ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই, জুলাই-যোদ্ধাদের নিয়োগের দাবি কেবল একটি কর্মসংস্থান বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সকাল ১১টার দিকে সংগঠনের প্রতিনিধি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করে, তবে উপাচার্য ব্যস্ত থাকায় দেখা হয় না। একাধিকবার পুনরায় চেষ্টা করার পরেও কোনো সাক্ষাৎ হয় না, ফলে তাদের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।

বিকালের দিকে, অনুমতি ছাড়াই সংগঠনের কিছু সদস্য উপাচার্যের অফিসে প্রবেশ করে। এই সময়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি অননুমোদিত প্রবেশের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নথি হারানোর ঝুঁকি এবং অফিসে অনুপযুক্ত আচরণ হয়েছে।

এরপর সংগঠনের সদস্যরা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনের অফিসে গিয়ে, সেখানে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে। যদিও বিস্তারিত ঘটনা প্রকাশিত হয়নি, তবে এই ঘটনা ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এমন ব্যক্তিদের যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে প্রশাসন কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তবে সময়ের অতিক্রমের পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মজুরিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের উপেক্ষা করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এই দাবির প্রতি কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। উপাচার্য ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এখনও স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করেননি, ফলে বিষয়টি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি ক্যাম্পাসে কোনো দাবি বা প্রতিবাদে অংশ নিতে চান, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ও নীতি অনুসরণ করে আপনার মতামত প্রকাশ করুন। আপনার অধিকার রক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মতামত কী, এবং কীভাবে আপনি ক্যাম্পাসে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চান?

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments