18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির জামায়াত-এ-ইসলামি প্রচারে ১,০০০ টাকা হস্তান্তর

বারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির জামায়াত-এ-ইসলামি প্রচারে ১,০০০ টাকা হস্তান্তর

সুপ্রিম কোর্টের বারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির শনি দিন মিরপুরের এক মোড়ে ভিডিওতে দেখা গেছেন, যেখানে তিনি জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শফিকুর রহমানের প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে এক বিক্রেতার হাতে নগদ টাকা দিলেন। ভিডিওটি ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কবির এক গাঁজন পাতা ও সিগারেট বিক্রেতার সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। বিক্রেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বলেন “সবাই ভয়ে আছে” এবং নতুন সরকার আসলে কী হবে তা অনিশ্চিত। কবির এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় নতুন সরকারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কোন সরকার ভালো হবে তা জানতে চান।

আলোচনার ধারায় কবির ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা মুসলিম, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বিষয়টি ঠিক করতে পারে না।” বিক্রেতা যখন উত্তর দেন যে আল্লাহই মানুষের জীবিকা ও সমাবেশের নিয়ন্ত্রণে আছেন, তখন কবির জিজ্ঞাসা করেন, “যদি আল্লাহর নির্দেশনা ছাড়া দেশ পরিচালিত হয়, তবে কি তা উন্নত হবে?” এই প্রশ্নের পর বিক্রেতা উত্তর দেন যে মানুষ কবরের মধ্যে বেশি সময় কাটায়, আর কবির তা শোনার পর কবরের জীবনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

আলোচনার শেষে কবির একটি হাজার টাকার নোট ভাঁজ করে বিক্রেতার হাতে দেন। নোটটি হাতে নেয়ার দৃশ্যটি ভিডিওতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এই দৃশ্যই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের সূত্রপাত করে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কবিরের সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে তিনি মিরপুর এলাকার জামায়াত-এ-ইসলামি প্রচারকর্মে অংশ নিচ্ছিলেন এবং টাকা দেওয়া কোনো ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা নয়, বরং মানবিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি জানি না ওই ব্যক্তি মিরপুরের ভোটার কিনা; তিনি শুধু গাঁজন পাতা ও সিগারেট বিক্রি করছিলেন।”

কবির আরও উল্লেখ করেন, যদি তিনি ভোট সংগ্রহের জন্য টাকা দিতেন, তবে তা গোপনে করতেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কেউ কি মিডিয়ার সামনে নগদ দিয়ে ভোট কিনে?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকাশ্যভাবে নগদ বিতরণের পদ্ধতিকে অস্বীকার করেন।

টাকা কীভাবে ভাঁজ করে হাতে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কবির ব্যাখ্যা দেন যে দান কখনও কখনও গোপনীয়ভাবে করা প্রয়োজন, তাই তিনি এভাবে করেছেন। তিনি বলেন, “যখন দান করা হয়, কখনো কখনো তা গোপন রাখতে হয়, তাই হয়তো এভাবেই করলাম।”

কবির জানান, তিনি ঐ স্থানে ৫০০ থেকে ৭০০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে সবাইকে টাকা দেননি। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলাপের সময়ই এই নগদ প্রদান করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর নির্বাচনী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার মোঃ ইউ-কে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। ভবিষ্যতে এই ধরনের নগদ বিতরণকে ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, যা নির্বাচনী আইনের অধীনে তদন্তের বিষয় হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জামায়াত-এ-ইসলামির প্রচারকালে এ ধরনের নগদ হস্তান্তর পার্টির ইমেজে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ উত্থাপন করতে পারে। তবে পার্টির পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা নেই।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, নির্বাচনী কমিশন সম্ভবত ভিডিওর প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রাসঙ্গিক আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই প্রকারের প্রচারমূলক কার্যক্রমের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় নগদ বিতরণের সীমা ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা উস্কে দিয়েছে, এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments