রাজা চার্লস প্রথমবারের মতো এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে হস্তক্ষেপ করে, থেমস ভ্যালি পুলিশকে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের (প্রিন্স অ্যান্ড্রু) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্তের সম্ভাবনা বিবেচনা করার সময় সমর্থন জানিয়েছেন। রাণী ও রাজা দুজনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা এই অভিযোগগুলোকে গভীরভাবে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
রাজপ্রাসাদের মুখপাত্রের মন্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: “The King has made clear, in words and through unprecedented actions, his profound concern at allegations which continue to come to light in respect of Mr Mountbatten-Windsor’s conduct.” এছাড়াও তিনি যোগ করেন, “While the specific claims in question are for Mr Mountbatten-Windsor to address, if we are approached by Thames Valley Police we stand ready to support them as you would expect.”
থেমস ভ্যালি পুলিশ সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে, তারা রিপাবলিক নামে অ্যান্টি‑মনার্কি গোষ্ঠীর দ্বারা দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে পাবলিক অফিসে সম্ভাব্য দুর্নীতি ও সরকারি গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য তদন্তের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করছে। রিপাবলিকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর সরকারি দায়িত্বের সময় গোপন তথ্য প্রকাশের সন্দেহ রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, ২০১০ ও ২০১১ সালে অ্যান্ড্রু যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন তথ্য শেয়ার করেছিল। এই ইমেইলগুলোতে এপস্টেইনকে সিঙ্গাপুর, হংকং ও ভিয়েতনাম ভ্রমণের সরকারি রিপোর্ট এবং আফগানিস্তানে বিনিয়োগের সুযোগ সংক্রান্ত গোপন নথি পাঠানোর তথ্য রয়েছে।
বিশেষ করে, আফগানিস্তানের বিনিয়োগের সুযোগগুলোকে “confidential” (গোপন) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং সেগুলো এপস্টেইনের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল। এই তথ্যগুলো প্রকাশের পর থেকে অ্যান্ড্রুর বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বাকিংহাম প্রাসাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত আরেকটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজা ও রাণীর “thoughts and sympathies have been, and remain with, the victims of any and all forms of abuse”। এই মন্তব্যটি সকল ধরনের নির্যাতনের শিকারদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
প্রিন্স ও প্রিন্সেস অফ ওয়েলসের মুখপাত্রের পূর্ববর্তী মন্তব্যেও বলা হয়েছিল, এপস্টেইন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশনাগুলো নিয়ে তারা “deeply concerned”। এই উদ্বেগের প্রকাশনা রাজপরিবারের অভ্যন্তরে এবং জনমতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি থেমস ভ্যালি পুলিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চালু করে, তবে তা রাজপরিবারের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর চাপ বাড়াবে। পাশাপাশি, রিপাবলিকের মতো অ্যান্টি‑মনার্কি গোষ্ঠীর অভিযোগের ফলাফল ভবিষ্যতে রাজপরিবারের জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্ককে পুনর্গঠন করতে পারে। পরবর্তী ধাপে, থেমস ভ্যালি পুলিশ অভিযোগের যথার্থতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করবে এবং প্রাসাদ থেকে প্রাপ্ত সমর্থন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।
এই ঘটনাগুলো যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যেখানে রাজপরিবারের ভূমিকা, সরকারি গোপনীয়তা রক্ষা এবং জনসাধারণের বিশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বজায় রাখা হবে তা নিয়ে বিতর্ক বাড়বে। ভবিষ্যতে আদালত বা তদন্তের ফলাফল কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে বর্তমান পর্যায়ে রাজা চার্লসের প্রকাশিত উদ্বেগ এবং প্রাসাদের সমর্থনই প্রধান দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



