বোম্বে‑টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাতে, অভিনেতা সৈফ আলি খান নেটফ্লিক্স ইভেন্টে উপস্থিতি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের উত্তর দেন। তিনি মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং একই সময়ে তার বাড়িতে ঘটিত ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা তত্ত্ব উত্থাপিত হয়েছিল।
ইভেন্টের পরপরই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন ওঠে যে, কেন তার সন্তান তায়মুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, কেন স্ত্রী করীনা কাপুর খান তার পাশে ছিলেন না এবং আক্রমণের পেছনে কী ধরনের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে সৈফ আলি খান তার অভিজ্ঞতা ও ঘটনার বিশদ বর্ণনা করেন।
আক্রমণের মুহূর্তে তিনি জানান, শত্রুর ছুরি তার গলায় আঘাত করার চেষ্টা করছিল, তবে অ্যাড্রেনালিনের প্রবাহের কারণে প্রথমে কোনো ব্যথা অনুভব করেননি। “অত্যধিক অ্যাড্রেনালিন ও শক থাকায় প্রথমে কোনো কষ্ট হয়নি,” তিনি উল্লেখ করেন। ছুরির ধার তার হাত, কব্জি ও বাহুতে কাটে, তবে তিনি দু’হাতে ছুরি থামাতে সক্ষম হন এবং বেশিরভাগ আঘাত নিজে রক্ষা করে নেন।
সৈফের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি তখন কুর্তা-পাজামা পরা, পা না জুতো পরা অবস্থায় ছিলেন এবং সম্পূর্ণভাবে শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। এমন অবস্থায় তিনি একাধিকবার শত্রুর সঙ্গে লড়াই করেন, তবে দু’টি ছুরি একসঙ্গে ব্যবহৃত হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যান। তখনই তার ঘরের কর্মী গীতা হস্তক্ষেপ করে আক্রমণকারীকে দূরে ঠেলে দেন। গীতা ছাড়া কেউ না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।
এই সময়ে করীনা কাপুর খান কী করছিলেন, তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি তৎকালীন তাদের ছোট সন্তান জেহকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। “করীনা জেহকে বের করে টিমের ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং গুলিতে চিৎকার করে বলেছিলেন ‘বাচ্চাটাকে বের করো!’” তিনি বলেন। আক্রমণকারী যখন ছোট শিশুকে হোস্টেজে ধরতে চেষ্টা করছিল, তখনই করীনা দ্রুত শিশুটিকে নিরাপদে বের করে নেন।
করীনা এছাড়াও রিকশা বা ক্যাবের জন্য চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলেন, যাতে দ্রুত নিরাপদ পরিবহন পাওয়া যায়। এই মুহূর্তে তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন। সৈফের মতে, এই ঘটনার পরপরই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন, যেখানে তিনি পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক দিন থাকেন। তায়মুরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা গুজবের ভিত্তিতে উঠে আসলেও, বাস্তবে শিশুটি কোনো শারীরিক আঘাত পাননি এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি।
সৈফ আলি খান শেষ পর্যন্ত জানান যে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন। তিনি পরিবারকে সমর্থন করার জন্য এবং নেটফ্লিক্সের নতুন প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই স্পষ্টিকরণে গুজবের মিথ্যা দিকগুলো পরিষ্কার হয়েছে এবং পাঠকদের কাছে সত্যিকারের তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।



