ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা কাবির খান, ইমতিয়াজ আলী, রিমা দাস এবং অনিরের যৌথ কাজ ‘মাই মেলবোর্ন’ ১৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে পিভিআর সিনেমার মাধ্যমে দেশের সব শহরে বড় পর্দায় প্রদর্শিত হবে। এই অ্যান্থলজি চারটি স্বতন্ত্র গল্পের সমাহার, যা ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে।
প্রকল্পটি মিতু ভৌমিক ল্যাঞ্জের মাইন্ড ব্লোয়িং ফিল্মস প্রযোজনা সংস্থা পরিচালিত এবং ভিক্টোরিয়া রাজ্যের স্ক্রিন এজেন্সি ভিকসক্রিন ও অস্ট্রেলিয়ার স্ক্রিন অস্ট্রেলিয়া উভয়ের আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এই সহযোগিতা দু’দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
‘মাই মেলবোর্ন’ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার ১৫তম ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ মেলবোর্নে আগস্ট ২০২৪-এ বিশ্বপ্রদর্শনী পায়। এরপর মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (MAMI) ২০২৪-এ ভারতের ভূখণ্ডে প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
অ্যান্থলজির চারটি গল্প জাতিগততা, লিঙ্গ, যৌনতা এবং প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি সমসাময়িক বিষয়কে কেন্দ্রে রেখে নির্মিত। প্রতিটি গল্পের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান বৈষম্য ও অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, যা দর্শকদের চিন্তায় নতুন দিক যোগায়।
অনিরের ‘নন্দিনী’, কাবির খানের ‘সেতারা’, রিমা দাসের ‘এমা’ এবং আরিফ আলির ‘জুলস’—যা ইমতিয়াজ আলীর সৃজনশীল দিকনির্দেশে তৈরি—এই চারটি অংশের মূল শিরোনাম। প্রত্যেকটি গল্পে পরিচালকের স্বতন্ত্র শৈলী ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, ফলে সমগ্র অ্যান্থলজি একটি বহুমুখী বর্ণমালা হয়ে ওঠে।
বহুভাষিক উপস্থাপনা এই প্রকল্পের আরেকটি বৈশিষ্ট্য; ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা, দারী এবং অস্ট্রেলিয়ার সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (Auslan) সহ মোট পাঁচটি ভাষায় চলচ্চিত্রটি রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভাষা নির্বাচন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্বরকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে এবং সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
প্রযোজক মিতু ভৌমিক ল্যাঞ্জের মতে, ‘মাই মেলবোর্ন’ শুধুমাত্র গল্পের সমাহার নয়, বরং মানবিক অভিজ্ঞতার ভাগাভাগি এবং বৈচিত্র্যময় কাহিনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তি ও সমতা প্রচারের একটি মঞ্চ। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল সংস্কৃতির সীমানা অতিক্রম করে সমন্বিত সিনেমা তৈরি করা, যা দর্শকদের মধ্যে সংলাপের সঞ্চার ঘটাবে।
পিভিআর সিনেমার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ফলে দেশের প্রধান শহরগুলোতে একাধিক স্ক্রিনে একই সময়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে, যা বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করে। পিভিআরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে টিকিটের সহজ বুকিং এবং প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের প্রচারকে ত্বরান্বিত করা হবে।
‘মাই মেলবোর্ন’কে দুই দেশের প্রথম সমন্বিত অ্যান্থলজি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা উভয় দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে। এই ধরনের আন্তঃসাংস্কৃতিক প্রকল্প পূর্বে দেখা যায়নি, ফলে এটি শিল্পের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
মেলবোর্ন ও মুম্বাই উভয় উৎসবে চলচ্চিত্রটি দর্শকদের কাছ থেকে উষ্ণ স্বাগত পেয়েছে; বিশেষ করে গল্পের গভীরতা ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলের প্রশংসা করা হয়েছে। সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে, অ্যান্থলজির প্রতিটি অংশে সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক অনুভূতির সূক্ষ্ম সমন্বয় দেখা যায়।
প্রদর্শনী শেষে কেরালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF) ও চেন্নাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (CIFF)-এও এই অ্যান্থলজি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অতিরিক্ত স্ক্রিনিংগুলো চলচ্চিত্রের পৌঁছাকে আরও বিস্তৃত করবে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।
‘মাই মেলবোর্ন’ মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের জন্য একটি নতুন সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা উপস্থাপিত হবে, যেখানে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিষয়ের সমন্বয় ঘটবে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা পৌঁছাবে, যা ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ আন্তঃসাংস্কৃতিক প্রকল্পের সূচনা করতে পারে।



